চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

  স্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ ঐতিহাসিক আলী সাহাপুর মসজিদ  কোতোয়ালি দরওয়াজা  খঞ্জনদীঘির মসজিদ  চামচিকা মসজিদ  ছোট সোনা মসজ...



 স্থান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • ঐতিহাসিক আলী সাহাপুর মসজিদ
  •  কোতোয়ালি দরওয়াজা
  •  খঞ্জনদীঘির মসজিদ
  •  চামচিকা মসজিদ
  •  ছোট সোনা মসজিদ
  •  তাহখানা কমপ্লেক্স
  •  তিন গম্বুজ মসজিদ
  •  দারসবাড়ী মসজিদ
  •  বাবুডাইং
  •  বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি
  •  শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহমতুল্লাহি এর মাজার
  • ষাড়বুরুজ

আলীশাহপুর, ফতেপুর, নাচোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ 
  • ঐতিহাসিক আলী সাহাপুর মসজিদ
কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউয়িনের ২নং ওয়ার্ডের আলীশাহপুর গ্রামে এর অবস্হান। নাচোল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। মোটর সাইকেল/নসিমন/মিশুকে করে যাওয়া যায়।

বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউয়িনের ২নং ওয়ার্ডের আলীশাহপুর গ্রামে প্রায় ৫’শত বছরের পুরনো একটি প্রাচীন মসজিদ  কালের সাক্ষী হিসাবে আজোও দাঁড়িয়ে আছে। কিন্ত এ ঐতিহাসিক  মসজিদটির কথা নাচোলের অধিকাংশ মানুষই জানেনা। সরকারী বা বেসরকারীভাবে এ মসজিদটি এ ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির তথ্য উৎঘাটন বা সংরক্ষনের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


মসজিদটি নাচোল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট। মসজিদের দেওয়ালের প্রস্থ ৩ ফুট। দেওয়াল অক্ষুন্ন রাখার বেস্টনীসহ এর প্রশস্থতা ৪২ ইঞ্চি। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে ৪টি বুরুজ। গম্বুজের চুড়ায় একটি মিনার আছে। উত্তর দক্ষিনে ২টি খিলান জানালা রয়েছে। দেওয়ালের চার কোনায় চারটি নাম রয়েছে। পশ্চিম দেওয়ালের ভিতরাংশের মধ্য স্থানে রয়েছে একটি ছোট খিলান মেহরাব। পূর্ব দেওয়ালের মধ্যে  রয়েছে একটি খিলান দরজা। এ দরজার দু’ পাশে রয়েছে ইস্টক অলংকরনে সজ্জিত দুটি দরজা। কাছে থেকে দেখে মনে হবে দরজা দুটি কাঠের এবং নানা নকশা অলংকরনে সজ্জিত যা সম্প্রতি বন্ধ করা হয়েছে বলে মনে হবে। কিন্ত প্রকৃত পক্ষে দরজার যাবতীয় অলংকরন ই্টের এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ। মসজিদটি গৌড়িয়া ইট দ্বারা নির্মিত। মসজিদের ভিত্তি, দেওয়াল ও গম্বুজটি খিলানের উপরে স্থাপিত। ভিতর ও গম্বুজে বিচিত্র নকশা রয়েছে। মসজিদের বহিরাংশের দেওয়াল গাত্রে বিচিত্র মেরলন নকশা বিদ্যমান। মসজিদের চার কর্নারে চারটি বুরুজের উপর রয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট চারটি মিনার। কোন শিলালিপির চিহ্ন নেই। মসজিদের উত্তর পশ্চিম কর্নারে রয়েছে একটি পুকুর। এটি মুসল্লীরা ওজু ও গোসলের কাজে ব্যবহার করতো কিন্ত নতুনভাবে সম্প্রসারন করায় মসজিদটির প্রকৃত অবয়ব পুরা অংশ ঢাকা পড়েছে।


ঐতিহাসিক এ মসজিদটি কখন কার আমলে বা কে নির্মান করেছিল তার নির্দিষ্ট মসজিদটিতে ওই সময়ের স্থাপত্য শিল্পের নির্দশনাবলী বিদ্যমান এবং তার নামানুসারে এ গ্রামের নামকরন করা হয় আলীশাহপুর। এ কারনে তারা মনে করেন এ মসজিদটি প্রায় ৫’শত বছর আগে নির্মিত । আবার কেউ কেউ মনে করেন ৬/৭ শত বছর আগে এ এলাকায় আলীশাহ নামক ধর্মপরায়ন এক ব্যক্তি ধর্ম প্রচারের জন্য এসে এই গ্রামে এ মসজিদটি নির্মান করেন। আর এ কারনেই তার নামানুসারেই গ্রামের নাম রাখা হয়। এ মসজিদের সঠিক ইতিহাস না পাওয়া গেলেও মসজিদের পুরাকীর্তির নিদর্শন দেখে সবাই মনে করেন এটি ৫ থেকে ৬’শ বছরের পুরনো ।


মসজিদ’টির দু’দাগে ৩৬ শতক জমি হযরত আলী শাহ’র নামে আরএস রেকর্ডে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ তথ্য হতে অনুমান করা যায় যে, হযরত আলীশাহ নামক কোন এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এটি নির্মান করেন এবং তার নামানুসারে মসজিদ ও গ্রামটির নামকরন করা হয়।


এলাকাবাসীরা আরো জানান, স্বাধীনতার আগে মসজিদটির আসে-পাশে বনজঙ্গলে ভরা ছিল। তখন এটিকে কেউ মসজিদ হিসাবে ব্যবহার করতো না। স্বাধীনতার পর নিকটবর্তী ফুরশেদ গ্রামের রসুল মিয়া (৭৫) নামক এক ব্যক্তি মসজিদটির সংস্কার করে তার ছেলেদের নিয়ে সর্বপ্রথম জু’মার নামাজ আদায় করেন। পরে মসজিদটি স্থায়ীভবে আরো সংস্কার ও সম্প্রসারন করা হয়। বর্তমানে ওই গ্রামের জামে মসজিদ হিসাবে সেটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

মসজিদ’টির আধা কিলোমটিার দক্ষিণ পূর্বে পীর পুকুর নামে একটি উঁচু ঢিবি ও পুকুরের অস্থিত্ব বিদ্যমান। ছোট এ ঢিবিটির উপর ও আশে-পাশে প্রচুর টুকরো টুকরো পাথর ও ইটের ভগ্নাংশ দেখতে পাওয়া যায়। স্থানটি প্রায় দেখতে জঙ্গালাকীর্ন। স্থানীয় লোকেরা স্থানটিকে পবিত্র স্থান তথ এলি উউলিয়ার মাজার বলে মনে করেন। এর প্রকৃত ইতিহাস এখনো রহস্যাবৃত ও তমাশাচ্ছন্ন। এলাকার নামকরন ও নানা আলামত থেকে শুধু অনুমান করা যায় যে, স্থানটি হয়তোবা আলীশাহ নামক কোন দ্বীণই বুজুর্গ ব্যক্তির মাজার হতে পারে। কলের বিবর্তনে অনেক ইতিহাস হারিয়ে গেছে। বহু প্রাসাদতুল্য ইমারত ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে কিন্ত পবিত্র স্থানগুলি আজো কালের সাক্ষি হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে।

যাহোক ব্যাপক গবেষনা, পর্যবেক্ষন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করলে এর ইতিহাস একদিকে যেমন বেরিয়ে আসবে। অন্যদিকে এ মসজিদটি নাচোল উপজেলার একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও পুরনো দিনের মুসলিম সভ্যতার পরিচায়ক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করবে। তাই মসজিদটি সংস্কার ও সংরক্ষণ অত্যান্ত জরুরী বলে প্রত্নতাত্বিক বিভাগের দৃস্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার অভিজ্ঞ মহল।


স্থান
শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
কোতোয়ালি দরওয়াজা
কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

নগর পুলিশের ফারসি প্রতিশব্দ ‘কোতওয়াল’ এর অনুকরণে নামকরণ করা হয়েছে। এ নগরপুলিশ (কোতওয়াল) গৌড় নগরীর দক্ষিণ দেয়াল রক্ষা করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে এটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। আবিদ আলীর বর্ণনানুযায়ী (Memoirs of Gaur and Pandua, Calcutta, 1931), প্রবেশপথের মধ্যবর্তী খিলানের উচ্চতা ৯.১৫ মিটার এবং প্রস্থ ৫.১০ মিটার। তার বিবরণে প্রবেশপথের পূর্ব ও পশ্চিমদিকের সচ্ছিদ্র প্রাচীরের কথা উল্লেখ আছে। এ ছিদ্রগুলি দিয়ে শত্রুর ওপর গুলি বা তীর ছোড়া হতো। আবিদ আলীর মতে, অভ্যন্তর ও বহির্ভাগ উভয় পার্শ্বের সম্মুখভাগে ক্রমঢাল বিশিষ্ট অর্ধবৃত্তাকার বুরুজ ছিল। বর্তমানে সারিবদ্ধ খরছিদ্র সম্বলিত বিশাল উত্তল পরিলেখসহ বহিস্থ বরুজের আংশিক দেখা যায়। বুরুজগুলির পার্শ্বের প্রতিরক্ষা প্রাচীর এখনও বিদ্যমান এবং তা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিম প্রাচীরটি নদী পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে, আর পূর্ব প্রাচীরটি ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে কিছুদুর গিয়ে পৌছেছে। এরপর এ প্রাচীর বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উত্তরমুখী হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে। পুরু মাটির দেয়াল দেখেই বোঝা যায়, নগরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তখন কত মজবুত ছিল। প্রবেশপথের খিলানগুলোর ভেতর ও বাহিরে উভয় পার্শ্বই কারুকার্যমন্ডিত প্যানেলে শোভিত এবং এ প্যানেলের অভ্যন্তরে আছে ঝুলন্ত মোটিফ। এসব প্যানেলের কিছু কিছু এখনও টিকে আছে।


প্রাচীন গৌড়ের রাজধানীতে প্রবেশ করতে হলে দক্ষিণ ‘নগর উপকন্ঠে’র অধিবাসীদের এই তোরণ অতিক্রম করতে হতো। নগরদূর্গের অধিবাসীগণের দক্ষিণমুখী পথও ছিল এটিই। এর উপরের খিলান বহুদিন আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। এই তোরণটির উচ্চতা ৩১২ ফুট বিস্তার ১৬ ফুট। প্রবেশপথের দৈর্ঘ্য ১৭ ফুট ৪ ইঞ্চি। জেনারেল ক্যানিংহাম লিখেছেন ‘‘ইহা প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য কীর্তির অন্যতম নিদর্শন।’’ সুলতান আলাউদ্দীন খিলজীর সমসাময়িক স্থাপত্য নিদর্শন বলে তিনি অনুমান করেছেন। তিনি আরো অনুমান করেছেন যে, সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীর মৃত্যুর পর লখনৌতিতে দিল্লীর আধিপত্য কায়েম হলে এই সুদৃশ্য নগর বেষ্টণী প্রাচীর ও তোরণটি নির্মিত হয়।’’ এ মত মেনে নিলে ১২২৯ (হিজরী ৬২৭) খ্রিস্টাব্দের কিছু পর এটি নির্মিত হয়েছিল বলতে হয়। ডাঃ দানী বলেছেন, ‘‘বঙ্গের সুলতান নাসিরউদ্দিন মহম্মদ শাহের আমলে (পান্ডুয়া হতে গৌড় রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ার পর) রাজধানীর নগর দ্বার হিসাবে ইহা নির্মিত হয়।’’ এই তোরণের উভয় পার্শ্বে ৬ ফুট বিশিষ্ট বৃত্তাকার দুটি শান্ত্রী ঘর ছিল। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ পাহারারত শান্ত্রী থাকতো। এই তোরণ ও শান্ত্রীঘর দুটিতে বিভিন্ন প্রকার লতাপাতার কারুকার্য ছিল।


স্থান
শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
খঞ্জনদীঘির মসজিদ
কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

দারসবাড়ী মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বল্লাল সেন খননকৃত বালিয়া দীঘির দক্ষিণ পাড় ঘেঁষে পূর্বদিকেকিছুদূর গিয়ে চোখে পড়ে খঞ্জনদীঘির মসজিদের ধ্বংসাবশেষ। একটি প্রাচীন জলাশয়ের পাশেই এ ধ্বংসাবশেষটি অবস্থিত। খঞ্চনদীঘির মসজিদটি অনেকের নিকট খনিয়াদীঘির মসজিদ নামে পরিচিত। আবার অনেকে একে রাজবিবি মসজিদও বলে থাকেন। বহুকাল ধরে মসজিদটি জঙ্গলের ভেতর পড়েছিল। কিছুকাল আগে জঙ্গল কমে গেলে মসজিদটি মানুষের চোখে পড়ে। কিন্তু ইতোমধ্যে মসজিদটি প্রায় শেষ অবস্থায় এসে পৌছেছিল। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ এখন এটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। বর্তমানে মসজিদটির একটি মাত্র গম্বুজ ও দেয়ালের কিছু কিছু অংশ কোন রকমে টিকে আছে। এগুলোর অবস্থাও খুব জীর্ণ। পূর্বে এই মসজিদের আয়তন ছিল ৬২Í৪২ ফুট। গম্বুজটির নিচের ইমারত বর্গের আকারে তৈরী। এই বর্গের প্রত্যেক বাহু ২৮ ফুট লম্বা। এটি মাঝের গম্বুজ। বড় কামরার সামনের দিকে (পূর্ব) একটি বারান্দা ছিল। ইটের তৈরী এ মসজিদের বাইরে সুন্দর কারুকাজ করা ছিল। যার নমুনা খুব সামান্য হলেও রয়েছে। খঞ্চনদীঘির মসজিদ কখন নির্মিত হয়েছিল এবং কে নির্মাণ করেছিলেন সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। তবে মসজিদ তৈরীর নমুনা দেখে পন্ডিতেরা অনুমান করেন যে এটি পনেরো শতকে নির্মিত হয়েছিল।


স্থান
শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
চামচিকা মসজিদ
কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

চামচিকা মসজিদের নামকরণের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়না। তবে বর্তমান ভারতে অবস্থিত বড় চামচিকা মসজিদের আদলেই এটি তৈরী। দারসবাড়ী মসজিদের মতই পোড়ামাটি ইট ও কারুকার্য খচিত এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর দেয়ালের পরিধি এত মোটা যে চৈত্র মাসের প্রচন্ড গরমে এর ভিতরে শীতল পরিবেশ বিদ্যমান থাকে। এর মূল গম্বুজটি অতি সুন্দর। এই মসজিদের পূর্বে ৬০ বিঘা আয়তনের খঞ্জন দিঘী নামে একটি বড় দিঘী রয়েছে যার পাড়ে সিড়ি বাঁধা ঘাট ছিলমুসল্লীদের ওজু করার জন্য।


স্থান

শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে। 

কিভাবে যাওয়া যায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।


যোগাযোগ
বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

ছোট সোনামসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যাত। এটি বাংলার রাজধানী গৌড়-লখনৌতির ফিরোজপুর কোয়াটার্স এর তাহখানা কমপ্লেক্স থেকে অর্ধ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং কোতোয়ালী দরওয়াজা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। বিশাল এক দিঘির দক্ষিণপাড়ের পশ্চিম অংশ জুড়ে এর অবস্থান। মসজিদের কিছু দূর পশ্চিমে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিপ্তর কর্তৃক কয়েক বছর পূর্বে নির্মিত একটি আধুনিক দ্বিতল গেষ্ট হাউস রয়েছে। গেষ্ট হাউস ও মসজিদের মধ্য দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে একটি আধুনিক রাস্তা চলে গেছে। মনে হয় রাস্তাটি পুরনো আমলের এবং একসময় এটি কোতোয়ালী দরওয়াজা হয়ে দক্ষিণের শহরতলীর সঙ্গে গৌড়-লখনৌতির মূল শহরের সংযোগ স্থাপন করেছিল।

 

প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। শিলালিপিতে নির্মানের সঠিক তারিখ সম্বলিত অক্ষরগুলি মুছে গেছে। তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর নামের উল্লেখ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, মসজিদটি তার রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোন এক সময় নির্মিত।


স্থান
শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
ছোট সোনা মসজিদ
কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

তাহখানা পারসিয়ান শব্দ যার আভিধানিক অর্থ ঠান্ডা ভবন বা প্রাসাদ। গৌড়-লখনৌতির ফিরোজপুর এলাকায় একটি বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ভবন কাঠামোটি ঐতিহ্যগতভাবে তাহখানা নামে পরিচিত। ভবনটির উত্তর-পশ্চিমে আরও দুটি কাঠামো রয়েছে নিকটস্থটি একটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ এবং একটু উত্তরে অবস্থিত অপরটি ভল্টেড বারান্দা ঘেরা একটি গম্বুজ সমাধি। যেহেতু ভবনগুলো একই সময় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়েছিল, সেহেতু সবগুলো ভবনকে একত্রে একটি একক ইউনিট বা একটি কমপ্লেক্স হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বর্তমানে এসব ধ্বংসপ্রাপ্ত। কে এই কমপ্লেক্সের নির্মাতা তা নির্দিষ্ট করে জানা যায় না। তবে ভবনগুলোর স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য, সুলতানি রীতির সৌধসমূহের মাঝে বিষম বৈশিষ্ট্যের মুঘলরীতির প্রয়োগ এবং সমসাময়িক ও পরবর্তী ঐতিহাসিক বিবরণ ইঙ্গিত করে যে এর নির্মাতা মুগল সুবাহদার শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিঃ) । তিনি সুফী সাধক শাহ নেয়ামতউল্লাহ ওয়ালীর প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ মাঝে মাঝে গৌড়-লখনৌতি যেতেন এবং তিনি সেখানে অবস্থানও করতেন। রাজমহলেই ছিল শাহ সুজার রাজধানী, যা গৌড় থেকে খুব দূরে নয়। তবে প্রায়ই গৌড়ে তার ভ্রমণ এবং সেখানে অবস্থিত লুকোচুরি দরওয়াজা নামে জাকজমকপূর্ণ মোঘল তোরণ এ যুক্তিটিকে আরও বেশি অকাট্য করে তুলেছে। খুব সম্ভবত শাহ সুজা দরবেশের খানকাহ হিসেবে এই ছোট্ট প্রাসাদটি এবং এর সংলগ্ন মসজিদ ও সমাধিসৌধটি নির্মাণ করেন। সমাধিটি সম্ভবত দরবেশের (মৃত্যু ১৬৬৪ অথবা ১৬৬৯ খ্রিঃ) অন্তিম শয়নের জন্য পূর্বেই নির্মিত হয়েছিল।

 

দ্বিতল ভবনটি মূলত ইট নির্মিত। তবে দরজার চৌকাঠের জন্য কালো পাথর এবং সমতল ছাদের জন্য কাঠের বীম ব্যবহৃত হয়েছে। পশ্চিম দিক থেকে ভবনটিকে দেখলে একতলা মনে হয়, পূর্বদিক থেকে অবশ্য দ্বিতল অবয়বই প্রকাশ পায়, যার নিচতলার কক্ষগুলি পূর্বদিকে বর্ধিত এবং খিলানপথগুলি উত্থিত হয়েছে সরাসরি জলাশয়টি থেকে। ভবনের দক্ষিণ পার্শ্বে রয়েছে একটি গোসলখানা যেখানে পানি সরবরাহ হতো একটি অষ্টভুজাকৃতির চৌবাচ্চার মাধ্যমে জলাশয় থেকে। উত্তর পার্শ্বে একটি ছোট পারিবারিক মসজিদ অবস্থিত এর পেছনে রয়েছে একটি উন্মুক্ত কক্ষ যেটি একটি অষ্টভুজাকার টাওয়ার কক্ষের সাথে সংযুক্ত ছিল। এ টাওয়ার কক্ষটি সম্ভবত ধ্যানের জন্য ব্যবহৃত হতো। অষ্টভুজাকার টাওয়ারটি সমস্ত কমপ্লেক্সটিতে ভারসাম্য প্রদান করেছে। প্রাসাদটি প্লাস্টার করা এবং তা খোদাইকৃত। এসব অলংকরণ রীতি মোঘল আমলের। তাহখানা কমপ্লেক্সটি সুলতানি যুগের নগরে মুগল রীতির স্থাপত্য নিদর্শনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের স্থাপত্য বাংলায় প্রথম। এ ধরনের কমপ্লেক্সের সূত্রপাত হওয়ার পর ঢাকা ও মুর্শিদাবাদে এরূপ প্রাসাদ, মসজিদ অথবা সমাধিসৌধ সম্বলিত কমপ্লেক্স একটি প্রচলিত রীতিতে পরিণত হয়।


স্থান
শাহবাজপুর ইউনিয়ন,শিবগঞ্জ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
তাহখানা কমপ্লেক্স
কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

শিবগঞ্জ উপজেলা ফিরোজপুরস্থিত শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ (রহঃ) প্রতিষ্ঠিত তদীয় সমাধি সংশ্লিষ্ট তিন গম্বুজ মসজিদটি মোঘল যুগের একটি বিশিষ্ট কীর্তি। এতে ৩টি প্রবেশ পথ এবং ভেতরে ৩টি মেহরাব রয়েছে। মসজিদের ভেতর ও বাইরে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কারুকার্য নেই। দেয়ালে কয়েকটি তাক আছে। স্থানীয় জনসাধারণ এই মসজিদে নিয়মিতভাবে নামাজ আদায় করে থাকেন। এই মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে সুলতান শাহ সুজা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দ্বিতল ইমারত মোঘল যুগের আর একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য কীর্তি। ইট নির্মিত ইমারতটি তোহাখানা নামে প্রসিদ্ধ। কথিত আছে বঙ্গ সুলতান শাহ সুজা তাঁর মোরশেদ হযরত শাহ নেয়ামতউল্লাহর উদ্দেশ্যে (রাজত্বকাল ১৬৩৯-৫৮ খ্রিঃ) শীতকালীন বাসের জন্য ফিরোজপুর তাপনিয়ন্ত্রণ ইমারত হিসেবে এ ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। সময়ে সময়ে শাহ সুজাও এখানে এসে বাস করতেন। এর দৈর্ঘ্য উত্তর দক্ষিণে ১১৬ ফুট ও প্রস্থে ৩৮ ফুট। এতে ছোট বড় অনেক কামরা ও উভয় পার্শ্বে বারান্দা ছিল।

 

জনশ্রুতি আছে যে-শাহ সুজা যখন ফিরোজপুরে মোরশেদ শাহ নেয়ামতউল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসতেন তখন উক্ত ইমারতের মধ্যবর্তী সুপ্রশস্ত কামরাটিতে বাস করতেন। গৌড়ের প্রাচীন কীর্তির মধ্যে এই শ্রেণীর ইমরাত এই একটিই পরিলক্ষিত হয়। কড়িকাঠের উপর খোয়া ঢালাই করে যার ছাদ ও কোঠা জমাট করা হয়েছিল। উল্লেখিত মসজিদ ও তাহখানার নিকটস্থ সরোবর দাফেউল বালাহর তীরে অবস্থিত। এই দুই ইমারত হতে দুইটি সিড়ি সরোবরের তলদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। পূর্বতীর হতে এই ইমারত দুটোর দৃশ্যাবলী খুবই মনোরম।


স্থান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে। শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

যোগাযোগ


বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

ছোট সোনামসজিদ ও কোতোয়ালী দরজার মধ্যবর্তী স্থানে ওমরপুরের সন্নিকটে দারসবাড়ী অবস্থিত। পুরুষানুক্রমে স্থানীয় জনসাধারণ এই স্থানকে ‘দারসবাড়ী’ বলে থাকেন। বর্তমানে এই স্থান পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দর্স অর্থ পাঠ। সম্ভবতঃ একসময় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ছিল এখানে। ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সময় মুনশী এলাহী বখশ কর্তৃক আবিস্কৃত একটি আরবী শিলালিপি অনুযায়ী (লিপি-দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ফুট ১ ইঞ্চি) ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁরই আদেশক্রমে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইট নির্মিত এই মসজিদের অভ্যন্তরের আয়তক্ষেত্র দুই অংশে বিভক্ত। এর আয়তন ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি, ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। পূর্ব পার্শ্বে একটি বারান্দা, যা ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি। বারান্দার খিলানে ৭টি প্রস্ত্তর স্তম্ভের উপরের ৬টি ক্ষুদ্রাকৃতি গম্বুজ এবং মধ্যবর্তীটি অপেক্ষাকৃত বড় ছিল। উপরে ৯টি গম্বুজের চিহ্নাবশেষ রয়েছে উত্তর দক্ষিণে ৩টি করে জানালা ছিল। উত্তর পশ্চিম কোণে মহিলাদের নামাজের জন্য প্রস্তরস্তম্ভের উপরে একটি ছাদ ছিল। এর পরিচয় স্বরূপ এখনও একটি মেহরাব রয়েছে। এতদ্ব্যতীত পশ্চিম দেয়ালে পাশাপাশি ৩টি করে ৯টি কারুকার্য খচিত মেহরাব বর্তমান রয়েছে। এই মসজিদের চারপার্শ্বে দেয়াল ও কয়েকটি প্রস্তর স্তম্ভের মূলদেশ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই । এ মসজিদটিও বাংলার প্রথম যুগের মুসলিম স্থাপত্যের কীর্তির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এখানে প্রাপ্ত তোগরা অক্ষরে উৎকীর্ণ ইউসুফি শাহী লিপিটি এখন কোলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত আছে। জেনারেল ক্যানিংহাম তার নিজের ভাষাতে একে দারসবাড়ী বা কলেজ বলেছেন। এ ঐতিহাসিক কীর্তির মাত্র কয়েকগজ দূরে ভারতীয় সীমান্ত।


স্থান
ঝিলিম ইউনিয়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হতে এর দূরত্ব মাত্র ১০ কিঃ মিঃ। পাঁকা রোড থাকায় এখান থেকে রিস্কা, অটো রিস্কা, কার-ম্যাইক্রো, বাস, রিজার্ভ করে যাওয়া যায়। মটর বাইকেও যেতে পারেন।

বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের লীলাভূমি পিকনিকস্পট বাবুডাইং। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হতে এর দূরত্ব ১০ কিঃ মিঃ। সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৫ লাখ বাসিন্দার চিত্তবিনোদনের জন্য তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা এখনও গড়ে ওঠেনি। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে কিছুটা অবসর কাটানোর কথা উঠলেই চলে আসে বাবু ডাইংয়ের নাম। এখানে সরকারের কয়েক'শ একর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি রয়েছে। এই জমিতে উঁচু-নিচু একাধিক টিলা ও প্রাকৃতিক ঝর্ণা থাকায় প্রাকৃতিক এই মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক এখানে আসেন। বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় অনেক বৃক্ষের সমাহার এখানে। যা দেখে পর্যটকরা অভিভূত হয়ে যায়। কিছু কিছু টিলায় আছে আদিবাসি জনগোষ্ঠির বসবাস। বাবুডাইং-কে কেন্দ্র করে একটি চমৎকার পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি  বাবু ডাইং এলাকায় একটি ক্যান্টনমেন্ট তৈরীর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।


স্থান
শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
তিন গম্বুজ মসজিদ
কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বরিশালের রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালের ৫ অক্টোবর কাকুলপাকিস্তান মিলিটারী একাডেমীতে যোগদান করেন। নিষ্ঠার সাথে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর ১৯৬৮ সালের ২ জুন কমিশন প্রাপ্ত হন। ছয় মাস চাকুরী করার পর তিনি রিসালপুরস্থ মিলিটারি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং এ যোগদান করেন এবং সুদীর্ঘ ১৩ মাসের বেসিক কোর্সে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরপর সেখান হতে বোম্ব ডিসপোজাল কোর্স করেন এবং কোর অব ইঞ্জিনিয়ারস এর একজন সুদক্ষ অফিসার হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে প্রচুর সুনাম অর্জন করেন। ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী যখন বাংলাদেশএক ধ্বংসযজ্ঞ ও পাশবিক অত্যাচারে লিপ্ত ছিল, তখন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কারাকোরামের বন্ধুর পার্বত্য সীমান্ত রক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে শিয়ালকোট সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় এলাকায় প্রবেশ করেন। ভারত হতে পরে তিনি বাংলদেশ সীমান্তে পৌঁছেন। শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্বাধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্দেশে রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকার ৭ নম্বর সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর অধিনায়ক হিসাবে কাজ করছিলেন। তার যোগ্য অধিনায়কত্বে মুক্তিবাহিনী এক চরম বিভীষিকারূপে হানাদার বাহিনীর সকল স্তরের সৈনিকদের মধ্যে মহাত্রাসের সঞ্চার করেছিল। সিংহ শক্তিতে বলিয়ান মুক্তিসেনারা ঝাপিয়ে পড়লে শত্রুদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটিগুলো একের পর এক পতন ঘটতে থাকে। তাদের আক্রমণ এত প্রবল ও ত্রাস সৃষ্টিকারী ছিল যে, একবার একটি শত্রু লাইনের উপর হামলা চালাবার পূর্ব মুহুর্তে প্রায় সহস্রাধিক শত্রুসেনা প্রাণের ভয়ে প্রতিরক্ষা ব্যুহ ছেড়ে চলে যান। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মহানন্দা নদী অতিক্রম করে শত্রুসৈন্যদের ধ্বংস করার জন্য নবাবগঞ্জের দিকে অগ্রসর হন। ১৪ ডিসেম্বর তিনি শত্রুদের কঠিন ব্যুহ ভেদ করবার জন্য দুর্ভেদ্য অবস্থানগুলো ধ্বংস করছিলেন, যখন আর একটি মাত্র শত্রু অবস্থান বাকী রইল এমন সময় মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংকার চার্জে শত্রুর বুলেটের আঘাতে বাংলার এই সূর্য সৈনিক শাহাদাৎ বরণ করলেন। দৃঢ় অথচ বজ্রশপথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে দুটি চোখ স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরীর মত সদা জাগ্রত থেকে ভবিষ্যতের স্বাধীন সোনালী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছিল তা স্তিমিত হয়ে গেল।১৫ ডিসেম্বর শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মৃতদেহ ঐতিহাসিক সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে আনা হয়। অসংখ্য স্বাধীনতা প্রেমিক জনগণ, ভক্ত মুক্তিযোদ্ধা, অগণিত মা-বোনের নয়ন জলের আর্শীবাদে সিক্ত করে তাকে এখানে সমাহিত করা হয়


স্থান
শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
দারসবাড়ী মসজিদ
কিভাবে যাওয়া যায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

বিস্তারিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে (গৌড়ের পূর্বাঞ্চলে) ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব যারা বহন করেছিলেন তাদের মধ্যে স্বনাম খ্যাত সাধক হযরত শাহ সৈয়দ নেয়ামতউল্লাহ (রহঃ) অন্যতম। সুলতান শাহ সুজার রাজত্বকালে (১৬৩৯-১৬৬০ খ্রিঃ) তিনি দিল্লী প্রদেশের করোনিয়ার নামক স্থান থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে নানা স্থান ভ্রমন করে রাজমহলে এসে উপস্থিত হন। তার আগমনবার্তা জানতে পেরে শাহ সুজা তাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানান এবং তার নিকট বায়াত গ্রহণ করেন। পরে তিনি গৌড়ের উপকন্ঠে (শিবগঞ্জ উপজেলার) ফিরোজপুরে স্থায়ীভাবে আস্তানা স্থাপন করেন। দীর্ঘদিন এতদঞ্চলে তিনি সুনামের সঙ্গে ইসলাম প্রচার করে ফিরোজপুরেই ১০৭৫ হিজরী (১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে) মতান্তরে ১০৮০ হিজরীতে (১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে) সমাধিস্থ হন। পারস্য দেশীয় একটি বিবরণীতে হযরত শাহ নেয়ামতউল্লাহ সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা হয়েছে। তিনি একজন জবরদস্ত আলেম ও আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন। ষোড়শ শতকের শ্রেষ্ঠ আওলিয়াগণের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন। তাহখানা প্রাসাদটি শাহ সুজা, শাহ নেয়ামতউল্লাহর বসবাসের জন্য প্রদান করেন। পরে তিনি সেখানে একটি ৩ গমবুজ মসজিদ নির্মান করেন এখনও তা অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।


হযরত শাহ নেয়ামতউল্লাহ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বংশধর ও পুরুষানুক্রমিক ওলী ছিলেন। তিনি হাকিকাত ও মারেফাতের শ্রেষ্ঠ কামেল দরবেশ ছিলেন। তাঁর মত একজন ধর্মনিষ্ঠ আউলিয়া যাতে আজীবন নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে ইসলাম ও মুসলমানের সেবা এবংরাজ্যের উন্নতি করতে পারেন -সেজন্য বাদশাহ আলমগীর মহিউদ্দিন আওরঙ্গজেব সুবায়ে বাঙলা সরকার জান্নাতাবাদে পরাগণে ‘দারাশাকে’ ৫,০০০/- টাকা আয়ের সম্পত্তি তার ও তার বংশধরদের ভরণপোষণের জন্য দান করেন। তিনি প্রায় ৩৩ বছর এই সম্পত্তির আয় থেকে এই মসজিদ ও খানকার যাবতীয় খরচাদি নির্বাহ করে গেছেন। তার মৃত্যুর পরও অনেকদিন পর্যন্ত সম্পত্তির আয় হতে খানকা ও মসজিদের জন্য ব্যয় হতো।

 

সম্রাট আওরঙ্গজেবের ফরমানটি নিম্নরূপঃ‘‘যেহেতু (সুলতানের) উদার ও ধার্মিক অন্তরে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ এবং নবীর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত সাঈদদের আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা পূরণের অভিলাষ গভীরভাবে বদ্ধমূল, সেজন্য এই শুভ সময়ে সাঈদ ও আমীরবৃন্দের এবং যার হাকিকাত ও মারিফাতের (আধ্যাত্মিক জ্ঞান) সাথে সুপরিচিত, তাদের আশ্রয়স্থল শাহ নেয়ামতউল্লাহর প্রতি রাজকীয় দানশীলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। কল্যাণ ও দয়ার আশ্রয় থেকে এই মর্মে একটি মহান ফরমান জারী করা হয়েছে যে, শরৎকালীন ফসলের শুরু থেকে বাংলা সুবার (প্রদেশ) জান্নাতাবাদ সরকারের দরসড়ক পরগানা থেকে ৫০০০/- টাকা তার বংশধরগণের ভরণপোষণের জন্য মঞ্জুর করা হলো। যাতে তিনি আরাম আয়েশে জীবন যাপন করতে পারেন এবং সাম্রাজ্যের ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করতে পারেন। সমস্ত রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাগণ এই রাজকীয় আদেশ স্থায়ী বিবেচনা করবেন এবং সে পরগণার যে সব মৌজার আয় ৫,০০০/- টাকা সেগুলো তার নিকটে তার ভরণপোষণের নিমিত্তে হস্তান্তর করতে হবে। পরলোকগত সুলতানের এটি সাবেক ফরমান দ্বারা দরবেশকে যে মদদ-ই-মাশের (খরচ) মঞ্জুরী দেয়া হয়েছিল, উপরোক্ত অর্থ এর অতিরিক্ত বিবেচনা করতে হবে। ফরমানের মধ্যে উল্লেখ নেই এমন কিছু (অর্থাৎ মঞ্জুরী) বাতিল বলে গণ্য করতে হবে। মূল ফরমানটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু এই ফরমানটি যা রবিউস সানি ১০৭৭ হিজরীতে প্রতিপালিত হয়েছে বলে সম্রাটকে জানানো হয় এবং শাহজাহানের ১৬ই রবিউস সানি, ১০৪৩ হিজরী তারিখে পূর্বতন ফরমানটি এই উভয় ফরমানের সত্যায়িত অনুলিপি মালদহ কালেকটরেটে পাওয়া যায়। গৌড়ের ফিরোজপুরে যে, পতিত জমি সৈয়দ শাহ নেয়ামতউল্লাহ চাষের অধীনে এনেছিলেন এবং যার আয় থেকে তিনি সেখানে তার নির্মিত একটি মসজিদ ও খানকার ব্যয় নির্বাহ করতেন, পূর্বতন আদেশটি দ্বারা তার উপর যে কোন ধরণের কর আরোপে নিষিদ্ধ করা হয়। ফরমান দুটির তারিখ দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, দরবেশ অন্তত ৩৩ বছর ফিরোজপুরে বসবাস করেন এবং তার মৃত্যুর তারিখ ১০৮০ হিজরী।

 

শাহ নেয়ামতউল্লাহর সমাধিঃ

 

হযরত শাহ নেয়ামতউল্লাহর মাজার শরীফ শিবগঞ্জ উপজেলার তোহাখানায় অবস্থিত। বার দরজা বিশিষ্ট চতুস্কোনায়তন তার সমাধিটি। প্রত্যেক পাশে ২/৩ টি করে দরজা আছে। এখানে যে লিপিটি আছে তা হোসেন শাহী যুগের একটি আরবী লিপি। পরবর্তীকালে তা স্থাপন করা হয়েছে। এই সমাধি প্রাঙ্গণে আরো কয়েকজন সাধক, তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গের সমাধি রয়েছে। হযরত শাহ নেয়ামতউল্লাহর সমাধি প্রাঙ্গন বৃক্ষশোভিত ও ইটের প্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত। প্রতিদিনই বহুলোক তার মাজার দর্শন করে কৃতার্থ হন।

 

পহেলা মহরম হযরত শাহ নোয়ামতউল্লাহর জন্ম ও মৃত্যুর দিন বলে পরিচিত। এই দিনে প্রতিবছরই এখানে ‘উরস পালন’ করা হয়ে থাকে। এছাড়া ভাদ্র মাসের শেষ শুক্রবার এখানে অন্য একটি উরস পালন করা হয়। এ দিনই অধিকাংশ লোক এখানে জমায়েত হয়ে থাকেন। এ দিনেরই ফজিলত বেশি বলে অনেকের ধারনা। হযরত এদিনে ইসলাম প্রচারের জন্য সর্বপ্রথম গৌড় নগরীতে পদার্পন করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবারের দিন আসরের নামাজের পর সারারাত ব্যাপী ‘জেকের’ অনুষ্ঠিত হয়। উরস কমিটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিলাদ শরীফ পাঠ করান হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসককে পদাধিকার বলে সভাপতি করে একটি ‘মাজার পরিচালনা কমিটি‘ গঠিত রয়েছে। এতে ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ী, সরকারী কর্মচারী ছাড়াও বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার বাদ জুম্মা হযরতের মাজারে চাদরপশী বা গিলাফ পরানো হয়। এই চাদর প্রদান করেন পীর সাহেবের বংশধর নবাবগঞ্জ নিবাসী আলহাজ্ব শাজাহান আলী । তিনি পীর সাহেবের কন্যা কাদিরণ নেসার বংশধর।


স্থান

রহনপুর, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

বাবুডাইং

কিভাবে যাওয়া যায়

গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে অবস্হিত। রহনপুর বড়বাজার হতে সোজা উত্তরে রহনপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিকট রাস্তার ধারে অবস্থিত। গোমস্তাপুর উপজেলা/রহনপুর হতে রিক্সা/ভ্যানযোগে অথবা পদব্রজেও যেতে পারেন।


যোগাযোগ

গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে অবস্হিত। রহনপুর বড়বাজার হতে সোজা উত্তরে রহনপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিকট রাস্তার ধারে অবস্থিত। গোমস্তাপুর উপজেলা/রহনপুর হতে রিক্সা/ভ্যানযোগে অথবা পদব্রজেও যেতে পারেন।


বিস্তারিত

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমান্তবর্তী উপজেলা গোমস্তাপুরের ষাঁড়বুরুজ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত। এ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রহনপুর ও এর আশেপাশে রয়েছে অগনিত প্রাচীন ঐতিহ্যের নির্দশন। রাজা লক্ষন সেনের আমলে রহনপুর বানিজ্য নগরী হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। বানিজ্যক কারনে রহনপুরই তিনি গড়ে তোলেন সূরম্য অট্রালিকা, যা বর্তমানে বিলপ্তির পথে। ষাঁড়বুরুজ নামে খ্যাত এই অট্রালিকাটির প্রকৃত নাম শাহবুরুজ। শাহ শব্দের অর্থ বাদশা আর বুরুজ শব্দের অর্থ অট্রালিকা বা বালাখানা। যা পরবর্তীতে লোকমুখে ষাঁড়বুরুজ নামে খ্যাতি লাভ করে। এই অট্রালিকার অদূরে গুমুজ নামে একটি ভবন আছে। লোকমুখে জানা যায় এটি রাজা লক্ষন সেনের বৈঠক খানা ছিল এবং এখানে তিনি তার দরবার চালাতেন। বর্তমানে রাজা লক্ষন সেনের অট্রালিকাটির ভেঙ্গে পড়ে একটি পাহাড়ে রুপ ধারন করে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এ ভগ্ন ভবনের চার পাশে বিভিন্ন বনজ গাছ লাগালেও সংরক্ষনের অভাবে প্রায় নষ্ট হতে বসেছে। অবৈধ দখলদারীর কারণে এর চারপাশে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য বসতবাড়ী। দখলদারীরা পাহাড় রুপ এ অট্রালিকাটি খুরে ইট,খোয়া নিয়ে যাচ্ছে।এ অট্রালিকার ভিতরে মূল্যবান মূর্তি ও বিভিন্ন সম্পদ আছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অনেক সময় রাতের অন্ধকারে দূবত্তরা খুড়ার চেষ্টা করেছে এমন আলামত পাওয়া যায়। এলাকাবাসী জানায় রাতে এখানে মাদক সেবীদের আসর বসে। এ অট্রালিকার অদূরে অধিবাসী আমিরুল জানায় গত ১৯৯৬ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বন পরিবেশ ও প্রত্নতাত্তিক অধিদপ্তরের একটি সরকারী অনুসন্ধান দল এসে পরিদর্শন করে গেলেও পরে আর কোন অগ্রগতি দেখতে যায়নি। সরকারী বেতন ভাতায় একজন লোক গম্বুজ পাহাড়া ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও প্রায়ই তাকে সেখানে দেখা যায়না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। কারো কারো মতে, বাংলা বিজয়ী ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি এ পথে বাংলা আগমন করেন। ইতিহাস পরিচিত নদীয়া এই অট্রালিকার পাশেই অবস্থিত। যা পরবর্তীতে নওদা নামে পরিচিতি লাভ করে। লোক মুখে শোনা যায় বখতিয়ার খলজির আগমনের কথা শুনে ভীত হয়ে রাজা লক্ষন সেন নদী পথে পলায়ন করে। বর্তমানে বিলপ্তির পথে এই ঐতিহ্যবাহী নির্দশনটি সরকারী কিংবা বেসরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে একটি পূর্নাঙ্গ বিনোদন পল্লীতে বূপান্তরিত হতে পারে।


ভ্রমণের উপকারিতাঃ

জীবনের প্রয়োজনে,চাকুরী সংক্রান্ত ব্যাপারে আপনাকে আপনার এলাকার সম্পর্কে দর্শনীয় স্থানসমূহ বিশেষ ব্যক্তিবর্গ এবং আপনার এলাকার বিশেষ বিশেষ কিছু নিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করতেই পারেন এবং ম্যাক্সিমাম সময় প্রশ্ন করে তাই আপনার এলাকা সম্পর্কে আপনার নিজের জানা উচিত তাই আপনার এলাকার সম্পর্কে আমরা খুঁটিনাটি সকল তথ্য তুলে ধরেছি। ভালোভাবে বাচাঁর তাগিদে যেমন সবসময় উন্নত জীবনযাত্রার কথা ভাবতে হয়। তেমনি মানুষিক সাস্থ্যের কথা ভেবে নিজ দেশে বা দেশের বাহিরে ঘুরতে যাওয়া ও প্রয়োজন। জেনে রাখা ভালো বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ। নিজ জেলার বা অন্য যে কোন জেলার উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামসংখ্যা দেখুন আলাদা আলাদা জেলার ছবিগুলোতে।সারাবছর ভ্রমণের স্থানসমূহ উন্মুক্ত থাকলেও আমরা সাধারণত শীতকালে ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি।

জেনে নিন ভ্রমণের দরকারি টিপসঃ

শীতকালীন ছুটিতে ঘুরতে বা বেড়াতে যাওয়া আরামদায়ক তাই শীতকালে পরিবার পরিজন নিয়ে যেকোন ভ্রমণস্পটে বা পিকনিকে যাওয়া খুবই আনন্দদায়ক।এই শীতে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায় তা নিয়ে অনেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। কোথায় ঘুরতে যাবেন তার আগে প্রয়োজন প্রস্তুতি । ঘুরতে যাওয়ার আগে ভালো প্রস্তুতির উপর নির্ভর করবে ভ্রমণ কতটা আনন্দময় হবে। 

সাথে রাখুনঃ

জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থানীয় জরুরি ফোন নম্বরসমূহ, হোটেল বা কটেজ সমূহের ঠিকানা ও ফোন নম্বর। শীতবস্ত্র, পানির বোতল, রোদের চশমা, ফোনের চার্জার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ, অতিরিক্ত অর্থকরি।

কোথায় যাবেনঃ

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে নির্ধারণ করে নিন আপনি কোথায় যেতে চান। বেড়াতে যাওয়ার আগে দেখুন কোন জেলার কোথায় কি কি দর্শণীয় স্থান রয়েছে। দেখে ভেবে নিন কোথায় বেড়াতে যাবেন। শীতকালের জন্য ভ্রমণের উপযোগী স্থানসমূহ হলো সাগর, পাহাড়, হাওড়, বন, নদী ঠিক কোন জায়গা আপনার বেশি পছন্দ সঙ্গে কাদের নিয়ে যাবেন। যেখানে যাবেন সেখানকার সুযোগ-সুবিধা কেমন। এই বিষয়গুলো চিন্তা করলেই আপনি পেয়ে যাবেন কোথায় যাওয়া ভালো্। 

কিভাবে যাবেনঃ

ভ্রমণে পরিবহন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।আপনি বাস, ট্রেন, প্রাইভেট কার, লঞ্চ কোনটায় যাবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। ফোনে বা কারো মাধ্যমে রাস্তার লোকেশন জেনে নিন।




COMMENTS

Get All The Latest Updates Delivered Straight Into Your Inbox For Free!

নাম

1,1,1nd Class Job,1,1rd Class Job,1,1st ciass job,37,1st Class Bank Job,23,1st Class Defence Job,14,1st Class Doctor's Job,20,1st Class Engineering Job,103,1st Class Government Job,71,1st class job,158,1st Class ob,1,1st Class Police Job,2,1st Class Professor Job,3,1st Class Professor's Job,29,1st Class Teacher,7,1st Class Teacher Job,12,1st Class Teacher's Job,2,2nd Class,31,2nd Class Job,4,2nd Class Bank Job,4,2nd Class Engineering Job,1,2nd Class Job,248,2st Class Job,1,3nd Class Job,1,3rd Class Job,681,3st Class Job,4,3th Class Job,7,4nd Class Job,9,4rd Class Job,1,4st Class Job,4,4th Class Job,494,প্রশ্ন ও সমাধান,1,প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ,1,About the admission IN Bangladesh Medical and Dental Admission Council MBBS of 2021 M B B S examinees,1,Admission,6,admit,1,Admit Card,8,Admit Card Download,5,Airforce Job,2,Airlines Job,2,Airport Job,1,‍Allowance,1,Ansar Job,5,Army Job,8,Aviation Job,2,BAC Job,1,Bangladesh ‍Acredition Council Job,1,Bangladesh Bank Exam Date,1,Bangladesh Betar jobs result news,1,Bank job,78,Banking Job,5,BBS Job Exam Date,1,BEPZA Job.,1,Biman Job,2,Biotechnology Job,1,BIWTA Job,1,BOF Job,1,BPSC Job,1,BRRI Job,1,BSCIC Job,2,BSMMU Admit Card,1,BTV Job,1,Cader Job,1,Cadet College Job,1,Cadet Job,1,Cantonment Job,3,CGA Result,1,Circular,1,City Corporation Job,1,City Manager Job,1,college,2,College Job,13,Community Health Center Job,2,Community Job,1,Company J০b,1,Company Jb,1,Company JOb,217,Compny Job,1,Computer Job,34,Cooker Job,2,Covernment Job,1,Customar Care Service Center,1,Defence Job,31,Defense Job,1,Department of Social Service,2,Department of Social Service job,1,DMTCL Job,2,DNC Admit Card,1,Doctor Job,3,Doctor's Job,15,DPE,2,Driver Job,6,Driving job,24,DSS Job,1,E-Commerce Job,2,E-PASSPORT,1,education,1,Electrical Job,19,Embassy Job,1,Engineer Job,1,Engineering Job,112,Exam,1,Exam Date,2,exam Result,2,Exam Date,405,Exam Postponed Circular,3,Exam Result,141,Exam Result & Viva Exam Date,1,Exam Resut,1,Exam's Date,1,Exam's Result,1,Exam’s Result,4,ExamDate,1,Final Result,18,Fire Service Job,2,Firemen Job,1,Food Exam Result,1,Foreign Job,6,Gjovernment Job,1,Governement Job,2,Governemt Job,1,Governent Job,1,Government,3,Government Jbo,1,Government Job,828,Government Job Exam Date,5,Government Job Information,2,Government Job News,1,Government Job Notice,2,Government Job with Training,7,Government Job's Viva Exam Date,4,Government Job's Written Exam Date,2,Government Job's Dxam Date,8,Government Job's Exam Date,5,Government Job's Exam Date Postponed,2,Government Job's Exam result,3,Government Jobs,80,Government Office,1,Government Office Job,90,Government Pay-Scale,2,Government Rules,1,GovernmentJob,5,Governmet Office Job,2,Governmetn Job,4,Govt. Job,28,Health Job,10,High Commission Job,1,Hill District Council Job,1,Hospital Job,11,Housing Loan,1,HSC,1,HSC Exam,1,ICT Division Job,4,Immigrant workers,1,Industry Job,1,Infomation,4,Inforamtion,2,Informantion,8,Informartion,2,Informatio,5,Information,975,Informtion,1,Infromation,8,Infrormation,2,Job,3,job circular,1,Job Details,1,Job Exam Date,8,Job Result,1,Just Exam Date,1,Key Account Manager Job,1,Laboratories Job,1,Lawyer Job,9,Lecturer Job,27,M B B S,1,Marketing Job,2,Marketing Job,1,Medical,1,Medical Job,15,Medicine Job,2,Metro Rail Job,2,Ministry Job,2,Municipality Job,2,Navy Job,7,Navy Result,1,new Votar,1,NGO,1,NGO Job,34,Non 'Government Job,2,Non Cadre Job,3,Non Government Job,111,Non-Cadre Job,1,Notice,2,notice.,1,Nurse Job,4,Nurseing Job,6,Nursing,1,Nursing Job,11,Officer Job,5,Old Age Allowance,2,on Government Job,1,Part time Job,1,Part Time Job Doctor's Job,2,Police Job,9,Police Super Office Job,2,Polli Biddut Job,5,Polli Biddut Job.,1,Polli Bidduyt Somity Job,3,port Job,2,Postponed,2,Postponed Circular,4,Postponed Job Exam Date,1,Postponed Job Exams,1,primary,1,primary education,1,Primary job circular declaration,1,Primay Job,2,Principal Job,4,Private Job,139,Privet Job,5,professor's job,28,Proyas Job,1,Result,170,Result Information,1,ritten Exam Result & Viva Exam Date,1,Running Job Circular,1,Sailor Job,2,Sailors Job,1,School Job,37,Scientist,3,Seat Plan,4,Seatplan,1,Senior Nurse Exam,2,Senior Nurse Job,4,Software Job,1,Special child,1,SSC,1,SSC Exam,1,st Class Government Job,1,Stor Manager Job,1,teacher,1,Teacher Job,57,Teacher's Job,4,Teaching,11,Technical Job,4,Technical Training Center Gttc,1,Temporary Job,1,th Class Job,1,To Get Duel Citizenship,1,Tourist Spots,1,Training,6,Training Job Circular,1,Training Circular,1,Training with Job,1,University Job,78,Upazilla Nirbahi Office Job,1,Vendor Coordinator Job,1,Viva Exam Date,65,Viva Exam Result,1,Viva test date,2,Wasa Job,1,Widow Allowance,2,Written exam,1,written Exam Date,5,written Exam Result & Viva Exam Date,2,
ltr
item
BDJobs7Days: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানসমূহ
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjMhNe4R-uxbCzyafFD-BJFw2M5GHXWNGZYs4KXgzSV8LNXG5v6LjEZLwEjZ9zT8g1-IWebZEC8MpGKu691fXaVdSuF9SE7_E6A3DQ8AM_e7bcjUr_PVxVWS63-U-u4VS6j96z8FcnlxXrNR2hwUlNDZzd2gGFo6feMhY4fWMWyzDinOUqS5bBeGqtOAg/s16000/Bank%20job%20logo.jpg
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEjMhNe4R-uxbCzyafFD-BJFw2M5GHXWNGZYs4KXgzSV8LNXG5v6LjEZLwEjZ9zT8g1-IWebZEC8MpGKu691fXaVdSuF9SE7_E6A3DQ8AM_e7bcjUr_PVxVWS63-U-u4VS6j96z8FcnlxXrNR2hwUlNDZzd2gGFo6feMhY4fWMWyzDinOUqS5bBeGqtOAg/s72-c/Bank%20job%20logo.jpg
BDJobs7Days
https://www.bdjobs7days.com/2022/05/blog-post_435.html
https://www.bdjobs7days.com/
https://www.bdjobs7days.com/
https://www.bdjobs7days.com/2022/05/blog-post_435.html
true
4007071098722840083
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share to a social network STEP 2: Click the link on your social network Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy