আয়কর রিটার্নে ১০ ভুল করলেই অডিট আপনার নামও কি এনবিআর এর তালিকায়?



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সাধারণত করদাতাদের রিটার্নে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য বা ভুল পেলে তা অডিটের (Audit) জন্য নির্বাচন করে। আপনি যদি জানতে চান যে ১০টি সাধারণ ভুল কোনগুলো যেগুলোর কারণে অডিট হতে পারে এবং আপনার নাম তালিকায় আছে কিনা তা কীভাবে বুঝবেন, তবে নিচের তথ্যগুলো আপনাকে সাহায্য করবে:

রিটার্নে যে ১০টি ভুলের কারণে অডিট হতে পারে

১. আয় গোপন করা: ব্যাংক হিসাবের সুদ, শেয়ার বাজারের মুনাফা বা অন্য কোনো গোপন উৎস থেকে আসা আয় রিটার্নে না দেখালে। ২. অস্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যয়: আপনার ঘোষিত আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার খরচ (যেমন- গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ, দামী ফ্ল্যাট) অস্বাভাবিক বেশি বা কম দেখালে। ৩. ভুয়া বিনিয়োগের দাবি: কর রেয়াত (Tax Rebate) পাওয়ার জন্য ভুয়া ডিপিএস, লাইফ ইন্স্যুরেন্স বা সঞ্চয়পত্রের প্রমাণ সাবমিট করলে। ৪. অপ্রদর্শিত সম্পদ: জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি কেনার তথ্য সম্পদ বিবরণীতে (IT-10B) এড়িয়ে গেলে। ৫. আগের বছরের সাথে অমিল: গত বছরের রিটার্নে দেখানো সমাপনী সম্পদের (Closing Asset) সাথে চলতি বছরের প্রারম্ভিক সম্পদের (Opening Asset) মিল না থাকলে। 6. পদ্ধতিগত ভুল বা গাণিতিক ত্রুটি: কর গণনা, রিবেট হিসাব বা করমুক্ত আয়ের সীমার হিসাবে ভুল করলে। ৭. উৎস কর (TDS) এর ভুয়া তথ্য: বেতন বা ব্যাংক থেকে কাটা অগ্রিম করের সঠিক সার্টিফিকেট ছাড়াই কর সমন্বয় দাবি করলে। ৮. কোম্পানির অডিট রিপোর্টের অমিল: কোনো ব্যবসার রিটার্নে পেশ করা আর্থিক প্রতিবেদনের সাথে এনবিআরের অনলাইন সিস্টেমের ডেটার অমিল থাকলে। ৯. উপহার বা ঋণের অস্পষ্টতা: রিটার্নে বড় অঙ্কের উপহার বা ঋণ দেখালে এবং তার সঠিক ব্যাংকিং প্রমাণ বা উৎস না থাকলে। ১০. ধারাবাহিক লোকসান দেখানো: ব্যবসা বা অন্য কোনো খাতে বছরের পর বছর টানা লোকসান দেখালে এনবিআর সন্দেহবশত ফাইল অডিটে পাঠাতে পারে।


আপনার নামও কি এনবিআরের অডিট তালিকায়?

এনবিআর সাধারণত ঢালাওভাবে কোনো পাবলিক তালিকা প্রকাশ করে না যেখানে সবাই গিয়ে নাম দেখতে পারবে। আপনার ফাইলটি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে কিনা তা জানার প্রধান উপায়গুলো হলো:

১. দাপ্তরিক নোটিশ (Section 93 / Audit Notice)

যদি আপনার ফাইলটি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়, তবে আপনার সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল (Tax Zone) এবং কর সার্কেল (Tax Circle) থেকে আপনার ঠিকানায় লিখিত নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হাজির হতে বলা হয়।

২. ই-রিটার্ন পোর্টাল (e-Return Portal)

আপনি যদি অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করে থাকেন, তবে আয়করের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে etaxnbr.gov.bd আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করে 'Notice' বা 'Notification' ট্যাবটি চেক করুন। কোনো নোটিশ বা অডিটের সিদ্ধান্ত হলে তা সেখানে আপডেট হওয়ার কথা।

৩. সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে যোগাযোগ

আপনার যদি তীব্র সন্দেহ বা আশঙ্কা থাকে, তবে আপনার উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ে (যে সার্কেলে আপনি রিটার্ন জমা দিয়েছেন) যোগাযোগ করে আপনার টিন (TIN) নম্বর দিয়ে ফাইলটির বর্তমান স্ট্যাটাস জেনে নিতে পারেন।


পরামর্শ: যদি কোনো নোটিশ পেয়ে থাকেন, তবে আতঙ্কিত না হয়ে একজন নিবন্ধিত আয়কর আইনজীবী (Income Tax Practitioner - ITP) বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র (ব্যাংক স্টেটমেন্ট, খরচের রসিদ ইত্যাদি) গুছিয়ে জবাব দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Previous Post
Next Post
Related Posts