জাতীয় পেনশন স্কিম নিয়ে নতুন নির্দেশনা



জাতীয় পেনশন স্কিম নিয়ে নতুন নির্দেশনা

জাতীয় পেনশন স্কিম নিয়ে নতুন নির্দেশনা জাতীয় বা সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সভায় বেশ কিছু নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এই স্কিমটিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয়, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করা।

নতুন নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. নতুন লক্ষ্যমাত্রা (৪ কোটি পরিবার অন্তর্ভুক্তকরণ)

সরকার আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

২. নতুন ফিচারের পরিকল্পনা ও সংস্কার

স্কিমটিকে জনগণের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কিছু নতুন বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হয়েছে:

  • শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম: ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে খুব দ্রুত শরিয়াহভিত্তিক (ইসলামী উপায়ে পরিচালিত) পেনশন স্কিম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

  • নমিনিদের জন্য আজীবন সুবিধা: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী পেনশনার মারা গেলে নমিনি ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পান। তবে নতুন নির্দেশনায় নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • আউটসোর্সিং কর্মীদের সুযোগ: 'প্রগতি' স্কিমের আওতায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৩. আস্থা বৃদ্ধি ও সাইবার নিরাপত্তা

গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই স্কিমে কিছুটা স্থবিরতা এসেছিল। সাধারণ মানুষের সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং পেনশন ফান্ডের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB) এই ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

৪. টাকা জমা দেওয়া আরও সহজ

আগে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া গেলেও, এখন গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এবং মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ) যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, তারাও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি নিবন্ধন করতে পারছেন।


একটি গুরুত্বপূর্ণ রিমাইন্ডার: এর আগে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে 'প্রত্যয়' স্কিমটি বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মচারীদের জন্য সর্বজনীন পেনশনের সেই বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিম আগের নিয়মেই চালু রয়েছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জমাকৃত অর্থের ওপর সর্বোচ্চ ১১.৬১% পর্যন্ত মুনাফা দেওয়া হয়েছে।


Previous Post
Next Post
Related Posts