চিড়িয়াখানায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষের কি অবস্থা?


 

ঢাকা মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রাণী রাখার একটি প্রধান স্থান। 

চিড়িয়াখানায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষের কি অবস্থা?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ঝড় তোলা এবং কোরবানি ঈদের ঠিক আগ মূহুর্তে নাটকীয়ভাবে বেচে যাওয়া এলবিনো জাতের সাদা জাতের মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প) এখন রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় বেশ রাজকীয় হালে এবং কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে।

বর্তমানে মহিষটির শারিরীক অবস্থা এবং চিড়িয়াখানায় তার দিনকাল কেমন কাটছে তার বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো।

১। বর্তমান বাসস্থান ও পরিচয়

মহিষটিকে চিড়িয়াখানার এল-০৭ (L-07) নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে। খাচার সামনে চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ একটি পরিচিতি ফলক ঝুলিয়ে দিয়েছে যেখানে লেখা রয়েছে সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প) এবং ইংরেজিতে Albino Buffalo 

২। রাজকীয় খাদ্য তালিকা (ডেইলি ডায়েট)

চিড়িয়াখানায় আসার পরে মহিষটির জন্য একটি নির্দিষ্ট এবং পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সে প্রতিদিন যা খাচ্ছে--

* নেপিয়ান ঘাস:- প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি তাজা এই ঘাস খায় 

* ছোলা ও ভুসি:- দৈনিক পাঁচ কেজি দানাদার খাদ্য (ছোলা ও ভুসি)

* পানি:- প্রতিদিন প্রায় আধামণ (২০ কেজি পান করছে)

* খাবারের সময়সুচি:- সকাল ৯টায় প্রথম দফায় ছোলা ভূসি, বেলা ১১টায় ঘাস, দুপুর ২টার পর আবার ঘাস এবং বিকেল ৩টায় শেষ দফায় ছোলা, ভূসি দেওয়া হয়।

৩। দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীর ও নিরাপত্তা

 ঈদের পর থেকেই চিড়িয়াখানায় মানুষের মূল আকর্ষণ এখন এই ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটিকে দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা এল-০৭ (L-07) ব্লকের সামনে ভীর জমাচ্ছে। অতিরিক্ত ভীরের কারণে প্রাণিটি যাতে কোনো অসস্বিতে না পরে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

* ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়ন:- দর্শনার্থীদের সামলাতে এবং মহিষটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাঁচার সামনে সার্বক্ষণিক ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। 

* দুরত্ব বজায় রাখা:- দর্শনার্থীদের একটি নির্দিষ্ট দুরত্ব রেখে মহিষটি দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

* মহিষটি ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়ে ওঠার গল্প:- এটি মূলত একটি বিরল প্রজাতির এলবিনো মহিষ। শরীরের মেলানিনের ঘাতটির কারণে গায়ের রং সাদা এবং গোলাপি হয়।  প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটি এমন হতে পারে। এর মাথার ওপরে সোনালি রংয়ের চুলের ঝুঁটি এবং গাঁয়ের রংয়ের সাথে যুক্তরাষ্টের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেহারার মিল খুঁজে পাওয়ায় খামারিরা ভালবেসে এর নাম রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

পুরোদেশে এটি ভাইরাল হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে এর মালিককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বা অন্য পশুর সাথে বদল দিয়ে মহিষটিকে কোরবানি করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করা হয়।

Previous Post
Next Post
Related Posts