শিক্ষকদের উৎসব বাড়ানো নিয়ে কি বললেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী কি বলেছেন?

 


শিক্ষকদের উৎসব বাড়ানো  নিয়ে কি বললেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উৎসবভাতা (ঈদ বোনাস) ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে শেষ পর্যন্ত শতভাগে (১০০%) উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আনম ডক্টর এহসানুল মিলন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন এবং সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শিক্ষকদের উৎসবভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে শতভাগ ্‌উৎসবভাতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে শিক্ষকদের উৎসবভাতা বর্তমানে যে স্তরে রয়েছে তা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এটিকে সরকারি চাকুরিজীবীদের মতো শতভাগে উন্নীত করা।

চলতি বছর আরো ১০% বৃদ্ধি, মন্ত্রী জানান এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বর্তমানে মূল বেতনের ৫০% উৎসবভাতা পাচ্ছেন। চলতি বছর ২০২৬ এর সাথে আরও ১০% বৃদ্ধি করা হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালে উৎসবভাতা ৬০ শতাংশতে উন্নীত করা হচ্ছে।

অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি, উৎসবভাতার পাশাপাশি শিক্ষকদের চিকিৎসা ভাতা ও বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলোও সরকার পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের শতভাগ মূল বেতন সরকার বহন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

শিক্ষকদের আর আন্দোলনে নামতে হবে না। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের শিক্ষাখাতকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নত করতে সরকার নিজে থেকেই কাজ করছে। তাই নিজেদের দাবি নিয়ে শিক্ষকদের আর রাজপথে নামতে হবে না।

শিক্ষা ব্যবস্থার এই সংস্কার ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। 

প্রস্তাবিত এবং আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া নবম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি শিক্ষকদের পাশাপাশি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্যও বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নতুন পে স্কেলের আলোকে শিক্ষকদের যে সব সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব ও পরিকল্পনা রয়েছে, তার একটি বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

১. মূল বেতন বা বেসিক বৃদ্ধি (৫০% থেকে ১০০% পর্যন্ত)

শিক্ষকদের গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে:

  • উচ্চ ও মধ্যম গ্রেড (১ম থেকে ১০ম গ্রেড): কলেজ প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের ক্ষেত্রে মূল বেতন প্রায় ৫০% বৃদ্ধির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

    • যেমন: ৯ম গ্রেডের একজন কলেজ প্রভাষকের বেসিক ২২,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩,০০০ টাকা এবং ৪র্থ গ্রেডের একজন অধ্যক্ষের বেসিক ৫০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫,০০০ টাকা হতে পারে। (কোনো কোনো প্রস্তাবে এটি আরও বেশি সুপারিশ করা হয়েছে)।

  • নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম গ্রেড (১১তম থেকে ২০তম গ্রেড): বিএডবিহীন সহকারী শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন ৫০% থেকে সর্বোচ্চ ১০০% (দ্বিগুণ) পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।

২. বাড়ি ভাড়া ভাতা বৃদ্ধি

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাড়া ভাতা দুই ধাপে মোট ১৫% বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

  • প্রথম ধাপের ৭.৫% ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

  • আগামী ১ জুলাই থেকে দ্বিতীয় ধাপের আরও ৭.৫% যুক্ত হয়ে মোট বাড়ি ভাড়া ভাতা দাঁড়াবে মূল বেতনের ১৫%। তবে ক্ষেত্রবিশেষে সর্বনিম্ন ভাতা ২,০০০ টাকা নির্ধারিত থাকবে।

৩. অন্যান্য ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষকদের অন্যান্য ভাতাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে:

  • বৈশাখী ভাতা: বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০% করার সুপারিশ করা হয়েছে।

  • টিফিন ভাতা: নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

  • প্রতিবন্ধী সন্তান সহায়তা: শিক্ষকদের মধ্যে যাদের প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য প্রতি সন্তানের বিপরীতে মাসিক ২,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য) বিশেষ ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

৪. অবসর সুবিধা ও পেনশন বৃদ্ধি

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশনে বড় ধরনের স্বস্তি আনা হচ্ছে:

  • যাদের মাসিক পেনশন ২০,০০০ টাকার কম, তাদের সুবিধা ১০০% (দ্বিগুণ) করার সুপারিশ করা হয়েছে।

  • বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতাও পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যা অবসরে যাওয়া বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় ওয়ান-স্টপ সাপোর্ট দেবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নতুন বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধাগুলো আগামী জুলাই মাসের বাজেট সেশনের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, যা সারাদেশের সরকারি ও প্রায় পৌনে ৫ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

Previous Post
Next Post
Related Posts