নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের কাজ কতদূর আগালো জানুন



নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের কাজ কতদূর আগালো জানুন

সরকারি কর্মচারি ও কর্মকর্তাগণের বহুল প্রতিক্ষীত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং অফিসিয়াল গেজেট (প্রজ্ঞাপন) প্রকাশের কাজটি এবং শেষ বা চুড়ান্ত পর্যায়ে রযেছে। সরকারের নীতিগত সিদ্বান্ত ও সর্বশেষ বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে তুলো ধরা হলো। 

১। জুনের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি, অর্থ ও পরিকল্পণা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে আগামী ১লা জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই কারণে চলতি জুন মাসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকতা গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করার জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চুড়ান্ত অনুমোদন বা সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই অর্থমন্ত্রণালয় থেকে এটি প্রকাশ করা হবে। 

২। ২০২৬-২৭ বাজেটের প্রতিফলন

২০২৬-২৭ অর্থবছরে আসন্ন মূল বাজেটে নবম পে-স্কেলে প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ যুক্ত করা হয়েছে। শেষ মূহুর্তের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাজেটের পরিচালন ব্যয় ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট বাজেটের আকার ৯,৩৮,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন (২০২৬) মাসের মধ্যেই নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের জোর প্রস্তুতি চলছে

আগামী ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। বর্তমান অগ্রগতি এবং প্রস্তাবিত কাঠামোর প্রধান বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

৩. গেজেট প্রকাশ ও কার্যকরের সময়সীমা

  • গেজেট প্রকাশ: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুন মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

  • কার্যকর: আগামী ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এর জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

৪. বাজেট ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন না করে তিনটি অর্থবছরে ধাপে ধাপে (তিন ধাপে) পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার:

  • প্রথম বছর (১ জুলাই ২০২৬ থেকে): মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ বৃদ্ধি পেয়ে কার্যকর হবে।

  • দ্বিতীয় বছর (২০২৭-২৮ অর্থবছর): মূল বেতনের বাকি অংশ পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

  • তৃতীয় বছর (২০২৮-২৯ অর্থবছর): বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য সব ভাতা নতুন কাঠামো অনুযায়ী একযোগে কার্যকর হবে (ততদিন পর্যন্ত পুরোনো নিয়মে ভাতা দেওয়া হবে)।

৫. প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো (সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন)

নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনা হচ্ছে:

  • সর্বনিম্ন মূল বেতন (২০তম গ্রেড): বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • সর্বোচ্চ মূল বেতন (১ম গ্রেড): বর্তমানের ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

  • নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সুবিধা: গ্রেডভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০% থেকে ১৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

পেনশনভোগীদের সুখবর: নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীর সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে যারা তুলনামূলকভাবে কম পেনশন পান।

বাজেট পাসের চূড়ান্ত ধাপের সঙ্গেই এই গেজেট জারির বিষয়টি যুক্ত, তাই জুনের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই এর চূড়ান্ত রূপ দেখা যেতে পারে।

Previous Post
Next Post
Related Posts