সরকারি কর্মচারীরা নতুন স্কেলে বেতন পেতে পারেন, নবম পে-স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক
পে-স্কেলের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে আগামীকাল (০৫-৪-২০২৬ ইং) রবিবার। নবম পে-স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক। নতুন বেতন কাঠামো আদৌ হবে কি না, হলে কবে থেকে কার্যকর হবে তা নিয়ে জরুরী মিটিং রয়েছে আগামীকাল। যুদ্ধসহ বিশ্বপরিস্থিতি সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে। নতুন বেতন কাঠামোর জন্য রাখা ৪০ হাজার কোটি টাকা গেছে ভর্তুকিতে।
আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছর থেকে সরকারি কর্মচারীরা নতুন স্কেলে বেতন পেতে পারেন। তবে সেটি একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনার কম। প্রথম ধাপে হয়তো মূল বেতন বা বেসিক অংশ কার্যকর হতে পারে এবং অন্যান্য সুবিধা পরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। ডক্টর মোহাম্মদ আলী খান (এনডিসি) সদস্য
জাতীয় বেতন কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনে প্রস্তাবিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য নতুন পে-স্কেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর, এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামীকাল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত (০৫-৪-২০২৬ ইং) রবিবার রোববার নবম পে-স্কেল নিয়ে মন্ত্রীদের সাথে মিটিং হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই সুপারিশ যে বাস্তবায়ন হচ্ছে স্পষ্ট। কারণ নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত (০৫-৪-২০২৬ ইং) রবিবার রোববার নবম পে-স্কেল নিয়ে মন্ত্রীদের সাথে মিটিং হয়েছে। এখন পে-স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি।
অর্থবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকেই বেতন কমিশনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। কমিশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে উক্ত বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। আগামীকালই বুঝা যাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন কি না, পেলে কবে থেকে কার্যকর হতে পারে। এ বিষয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের কাজ শেষ করেছেন ডক্টর মোহাম্মদ আলী খান (এনডিসি), সুপারিশও জমা দিয়েছেন। এখন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের।
অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে কোনো বেতন কমিশনের সুপারিশই শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। তাই বর্তমানের সুপারিশও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে কি না তা নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। সাবেক সচিব বলেন, তার জানামতে আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মচারিরা নতুন পে-স্কেলে বেতন পেতে পারে। তবে সেটি একসঙ্গে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
প্রস্তাবিত বেতন কমিশন ২০২৫ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের গড় বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোই চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫% রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমান বেতন কাঠামোতেও একই হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিধান রয়েছে। অর্থবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তবে, চলতি সময়ে বেতন খাতে ছয়মাসের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়েছে।
বাকি অর্থ পরবর্তী অর্থ বছরে বরাদ্ধ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিলো। কমিশনের সুপারিশে ২০টি গ্রেড রাখার কথা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বেতন স্কেল কার্যকর হলে বর্তমানে দেওয়া ১০ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রচলিত নিয়মে সমন্বয় করার কথাও বলা হয়েছে।
