মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে বদলান ৮ অভ্যাস

 


মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে বদলান ৮ অভ্যাস

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে বদলান ৮ অভ্যাস মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ দীর্ঘ সময় বজায় রাখার জন্য আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। অবহেলা বা অসচেতনতার কারণে গড়ে ওঠা কিছু সাধারণ অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়।

মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে আজই যে ৮টি অভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত, তা নিচে আলোচনা করা হলো:


১. অপর্যাপ্ত ঘুম বর্জন করা

পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের জন্য রিচার্জ হওয়ার সময়। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সারাদিনের অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলে এবং প্রয়োজনীয় স্মৃতিগুলো স্থায়ী করে। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। নিয়মিত ঘুমের অভাব স্মৃতিশক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ।

২. সকালের নাস্তা বাদ না দেওয়া

সারা রাত উপোস থাকার পর সকালে মস্তিষ্কের সচলতার জন্য গ্লুকোজের প্রয়োজন হয়। সকালের নাস্তা বাদ দিলে মস্তিষ্কে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়, যা সারাদিনের মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। সকালে পুষ্টিকর ও ভারী নাস্তা খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৩. অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনি খাওয়া বন্ধ করা

অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত করে এবং পুষ্টির শোষণ কমিয়ে দেয়। ফলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে।

৪. অলস জীবনযাপন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা দূর করা

শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ে। যারা সারাদিন বসে কাজ করেন বা কোনো শারীরিক পরিশ্রম করেন না, তাদের মস্তিষ্কের কোষগুলো দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।


৫. অতিরিক্ত গ্যাজেট বা স্ক্রিন টাইম কমানো

ঘুমানোর আগে বা সারাদিন অতিরিক্ত মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে তা থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়। এটি মস্তিষ্কের বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটায় এবং মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়।

৬. একা থাকার অভ্যাস বা সামাজিক যোগাযোগহীনতা কমানো

মানুষ সামাজিক জীব। দীর্ঘ সময় একা থাকা বা মানুষের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং বিষণ্ণতা বাড়ে। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সাথে কথা বলা এবং সামাজিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়া মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত ও তরুণ রাখে।

৭. মাল্টিটাস্কিং বা একসাথে অনেক কাজ করার চেষ্টা না করা

অনেকেই ভাবেন একসাথে অনেক কাজ করা বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ, কিন্তু আসলে এটি মস্তিষ্কের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা (Attention Span) কমিয়ে দেয়। মস্তিষ্ক একসাথে দুটি জটিল কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে না। তাই একটি সময়ে একটি কাজেই মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস করুন।

৮. কম পানি খাওয়ার অভ্যাস বদলানো

আমাদের মস্তিষ্কের প্রায় ৭০-৮০% অংশই পানি। শরীরে পানির সামান্য ঘাটতি হলেও তা মাথা ব্যথা, মনোযোগের অভাব এবং স্মৃতিভ্রমের কারণ হতে পারে। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ (অন্তত ২-৩ লিটার) পানি পান নিশ্চিত করুন।


সংক্ষিপ্ত পরামর্শ: মস্তিষ্ককে সচল রাখতে নতুন কোনো ভাষা শেখা, বই পড়া বা পাজল/দাবা খেলার মতো মানসিক ব্যায়ামের অভ্যাসও গড়ে তুলতে পারেন।

Previous Post
Next Post
Related Posts