সরকারি খাস জমি লিজ বা বন্দোবস্ত নেওয়ার উপায়

 


সরকারি খাস জমি লিজ বা বন্দোবস্ত নেওয়ার উপায়

বাংলাদেশে সরকারি খাস জমি লিজ বা বন্দোবস্ত নেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সাধারণত ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে। নিচে খাস জমি লিজ নেওয়ার প্রধান ধাপগুলো তুলে ধরা হলো:

১. আবেদনের যোগ্যতা

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

  • ভূমিহীন পরিবারগুলো (যাদের কৃষি জমি নেই বা ১০ শতাংশের কম বসতভিটা আছে) অগ্রাধিকার পায়।

  • মুক্তিযোদ্ধা, নদী ভাঙনে সর্বস্বান্ত পরিবার বা বিধবাদের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার থাকে।

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদন করার সময় সাধারণত নিম্নোক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়:

  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এর ফটোকপি।

  • নাগরিকত্ব সনদ (চেয়ারম্যান বা মেয়র কর্তৃক প্রদত্ত)।

  • আবেদনকারী যে ভূমিহীন, তার স্বপক্ষে স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র।

  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৩. আবেদনের প্রক্রিয়া

১. আবেদন ফরম সংগ্রহ: সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস (AC Land Office) থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনেও আবেদন করা যায়। ২. আবেদন জমা: সঠিকভাবে পূরণ করা আবেদনপত্রটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) অথবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর জমা দিতে হবে। ৩. তদন্ত ও যাচাই-বাছাই: আবেদন জমা দেওয়ার পর ভূমি অফিস থেকে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) জমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করেন। ৪. অনুমোদন: তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে সেটি উপজেলা খাস জমি ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অনুমোদিত হলে ফাইলটি জেলা প্রশাসকের (DC) কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়।


৪. লিজের ধরণ

সাধারণত দুই ধরণের লিজ বা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়:

  • কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত: এটি সাধারণত ভূমিহীনদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ীভাবে দেওয়া হয়।

  • অকৃষি খাস জমি লিজ: এটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য (যেমন: এক বছর বা তার বেশি) ব্যবসা বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে লিজ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ সেলামি বা বার্ষিক কর সরকারকে প্রদান করতে হয়।

৫. গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়

  • কবুলিয়ত ও রেজিস্ট্রেশন: বন্দোবস্ত চূড়ান্ত হলে গ্রহীতাকে একটি কবুলিয়ত দলিল সম্পাদন করতে হয় এবং জমিটি সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।

  • জমি হস্তান্তর: লিজ নেওয়া খাস জমি সাধারণত অন্য কারো কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যায় না।

সতর্কতা: খাস জমি লিজ দেওয়ার নামে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালকে টাকা দেবেন না। যেকোনো তথ্যের জন্য সরাসরি আপনার এলাকার উপজেলা ভূমি অফিসে (AC Land Office) যোগাযোগ করুন। বর্তমানে অনেক সেবা 'ই-নামজারি' বা অনলাইন পোর্টালে পাওয়া যাচ্ছে, তাই ডিজিটাল সেবাগুলো ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

Previous Post
Next Post
Related Posts