সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি ২০২৬

 




সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি ২০২৬

২০২৬ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিটি মূলত অনলাইন ভিত্তিক iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। সাধারণত প্রতি বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা হলে এই ফিক্সেশন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

২০২৬ সালের জন্য প্রচলিত পদ্ধতি ও নিয়মগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. অনলাইনে পে ফিক্সেশন করার ধাপসমূহ

বর্তমানে ফিক্সেশন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:

  • ওয়েবসাইট: প্রথমে ibas.finance.gov.bd/Fixation লিঙ্কে প্রবেশ করতে হবে।

  • তথ্য প্রদান: আপনার ১৭ ডিজিটের এনআইডি (NID) নম্বর এবং আগের ফিক্সেশন কপির ভেরিফিকেশন নম্বর প্রদান করতে হবে।

  • ওটিপি (OTP): রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি কোডটি ইনপুট দিয়ে লগইন করতে হবে।

  • অপশন নির্বাচন: বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের জন্য 'Increment' অপশন এবং পদোন্নতি বা নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপশনটি বেছে নিতে হবে।

২. বেতন নির্ধারণের গাণিতিক পদ্ধতি

নতুন কোনো বেতন কাঠামো বা বিশেষ ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণে সাধারণত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে:

  • পার্থক্য যোগ পদ্ধতি (Difference Addition Method):

    এই পদ্ধতিতে পুরাতন স্কেলের বেসিকের সাথে ইনক্রিমেন্ট-জনিত পার্থক্য যোগ করে নতুন স্কেলের নিকটতম উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হয়।

  • ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি (Increment Factor Method):

    এখানে একটি নির্দিষ্ট ফ্যাক্টর (যেমন ১.২৮ বা ১.৪৫) দিয়ে বর্তমান বেসিককে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে নতুন স্কেলের ধাপে বসানো হয়। যদি গুণফল স্কেলের কোনো ধাপের সাথে হুবহু না মিলে, তবে তার পরবর্তী নিকটতম উচ্চতর ধাপে বেতন ফিক্সড করা হয়।

৩. প্রয়োজনীয় তথ্যাদি

ফিক্সেশন করার সময় আপনার হাতের কাছে নিচের তথ্যগুলো রাখা জরুরি:

  1. ১৭ ডিজিটের এনআইডি (জন্ম সালসহ)।

  2. সক্রিয় মোবাইল নম্বর (যা iBAS++ এ নিবন্ধিত)।

  3. পূর্ববর্তী পে ফিক্সেশন ভেরিফিকেশন নম্বর।


সতর্কতা: অপ্রয়োজনে বা ভুল তথ্য দিয়ে iBAS++ সিস্টেমে এন্ট্রি করবেন না। এতে আপনার মূল বেতন ডেটায় টেকনিক্যাল জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই ভিডিওটিতে ৯ম পে স্কেল বা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের গাণিতিক উদাহরণ এবং ধাপগুলো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

২০তম গ্রেড (বর্তমান সর্বনিম্ন)৯ম পে-স্কেলের সম্ভাব্য সর্বনিম্ন
৮,২৫০ টাকা১৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা (দাবি অনুযায়ী)

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত বা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন প্রদান করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সময় কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি এবং মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে নবম পে-স্কেল নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও প্রস্তাবনা শোনা যায়।

যদি নবম পে-স্কেল কার্যকর হয়, তবে বর্তমান মূল বেতনের সাথে গুণক বা বৃদ্ধির হার কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো:

১. সম্ভাব্য গুণক (Multiplier)

সাধারণত নতুন পে-স্কেল নির্ধারণের সময় গত কয়েক বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন স্কেলে মূল বেতন বর্তমানের তুলনায় ১.৫ থেকে ১.৮ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমানের ১০০০ টাকা মূল বেতন নতুন স্কেলে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা হতে পারে।

২. মূল বেতনের সম্ভাব্য ধাপ

সরকারি কর্মচারীদের দাবিনামা অনুযায়ী একটি খসড়া চিত্র নিচে দেওয়া হলো (এটি কেবল আলোচনার উদ্দেশ্যে):

২০তম গ্রেড (বর্তমান সর্বনিম্ন)৯ম পে-স্কেলের সম্ভাব্য সর্বনিম্ন
৮,২৫০ টাকা১৫,০০০ - ২০,০০০ টাকা (দাবি অনুযায়ী)

Previous Post
Next Post
Related Posts