সরকারি চাকরি আইন সম্প্রতি ২০২৫ সালে এই আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।
সরকারি চাকরি আইন ২০১৮
বাংলাদেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কর্মচারীগণের নিয়োগ এবং কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণের জন্য ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ কার্যকর রয়েছে। সম্প্রতি ২০২৫ সালে এই আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে।
নিচে এই আইনের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. আইনের প্রয়োগ ও পরিধি
এই আইনটি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত সকল কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্র এই আইনের আওতাভুক্ত নয়, যেমন:
সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট কোনো পদ বা চাকরি।
বিচার-কর্ম বিভাগ ও প্রতিরক্ষা-কর্ম বিভাগ।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
জাতীয় সংসদ ও সুপ্রীম কোর্ট।
প্রকল্প বা চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী চাকরি।
২. নিয়োগ ও পদোন্নতি
মেধা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা: সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে নিয়োগের বিধান রয়েছে।
যোগ্যতা: পদোন্নতি বা পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সততা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৩. শৃঙ্খলা ও অসদাচরণ (২০২৫ সালের সংশোধন)
২০২৫ সালের সংশোধনীতে কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে কিছু কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে:
অসদাচরণের সংজ্ঞা: ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা, কর্মে উপস্থিতিতে বাধা দেওয়া, বা বিনা অনুমতিতে সমবেতভাবে কর্মে অনুপস্থিত থাকাকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
দণ্ড: গুরুতর অসদাচরণের জন্য তিনটি প্রধান দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে: ১. নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ। ২. চাকরি হতে অপসারণ। ৩. চাকরি হতে বরখাস্ত।
৪. গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধান
পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে তাকে গ্রেফতার করতে হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হতো। তবে আদালতের বিভিন্ন রায়ের ফলে এবং আইনি পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এই নিয়মের কিছু পরিবর্তন ঘটেছে।
৫. অবসর ও অবসর উত্তর সুবিধা
বয়সসীমা: বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সাধারণ অবসরের বয়স ৫৯ বছর (মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৬০ বছর)।
পিআরএল: অবসরে যাওয়ার পর একজন কর্মচারী ১ বছর পর্যন্ত ‘অবসর উত্তর ছুটি’ (PRL) ভোগ করতে পারেন।
৬. জনপ্রশাসন সংস্কার
২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনপ্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এই আইনে আরও ব্যাপক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
