ভূমি মন্ত্রণালয় সারা দেশের ভূমি মালিকদের জন্য একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

 


ভূমি মন্ত্রণালয় সারা দেশের ভূমি মালিকদের জন্য একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

এই নির্দেশনার মূল বিষয় হলো— আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে হবে।

ভূমি মালিকদের সুবিধার্থে এবং যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে মন্ত্রণালয় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও তথ্য দেওয়া হয়েছে:

১. ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর পরিশোধ

ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্মার্ট ও স্বচ্ছ করতে এখন পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা ছাড়াই ভূমি মালিকরা ঘরে বসে কর দিতে পারবেন।

২. কীভাবে পরিশোধ করবেন?

  • ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত পোর্টাল land.gov.bd-এ যেতে হবে।

  • প্রথমে পোর্টালে নিজের নাগরিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

  • এরপর খতিয়ান ও জোত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে করের পরিমাণ জানা যাবে।

  • সবশেষে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি), ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

৩. কেন ৩০ জুনের মধ্যে দেওয়া জরুরি?

যেহেতু সরকারি অর্থবছর ৩০ জুন শেষ হয়, তাই এই সময়ের মধ্যে খাজনা পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সুদ যুক্ত হতে পারে কিংবা অন্যান্য আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ডিজিটাল এই ব্যবস্থার ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য যেমন কমবে, তেমনি ভূমি মালিকদের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হবে। তাই যেকোনো জটিলতা এড়াতে নির্ধারিত সময়ের আগেই আপনার জমির খাজনা সম্পন্ন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বাংলাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে সরকার এবং ভূমি মন্ত্রণালয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। ভূমির মালিকানা ধরে রাখা, জালিয়াতি রোধ এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে প্রত্যেক ভূমি মালিকের জন্য এই বিষয়গুলো জেনে রাখা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

নিচে প্রধান জরুরি নির্দেশনাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


১. ডিজিটাল ‘ভূমি উন্নয়ন কর’ (খাজনা) নিবন্ধন ও পরিশোধ

সরকার এখন সম্পূর্ণভাবে স্মার্ট ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করেছে। এখন আর সশরীরে তহশিল অফিসে গিয়ে নগদ টাকায় খাজনা দেওয়ার সুযোগ নেই।

  • করণীয়: প্রত্যেক ভূমি মালিককে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ldtax.gov.bd পোর্টালে গিয়ে নাগরিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

  • কেন জরুরি: নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করলে বকেয়ার ওপর বার্ষিক ৬.২৫% হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ যুক্ত হয়। এছাড়া দীর্ঘদিন খাজনা অনাদায়ী থাকলে সরকার ওই জমি খাস খতিয়ানভুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

২. ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ সম্পর্কে সতর্কবার্তা

ভূমি খাতের সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন হলো এই নতুন আইন। এই আইনের অধীনে জমি নিয়ে যেকোনো ধরণের জালিয়াতি বা প্রতারণাকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

  • গুরুত্বপূর্ণ দিক: নিজের নামে জমি থাকলেও যদি তার বৈধ দলিল বা খতিয়ান না থাকে, তবে জোরপূর্বক দখল ধরে রাখা অপরাধ।

  • শাস্তি: অন্যের জমি ভুয়া দলিল বানিয়ে দখল করলে বা দলিল ছাড়া জমি বিক্রি করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

৩. খতিয়ান (পর্চা) ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নাম সংশোধন

অনেক সময় দেখা যায় পুরাতন খতিয়ান বা দলিলের নামের বানানের সাথে মালিকের বর্তমান NID কার্ডের নামের মিল থাকে না।

  • করণীয়: কোনো নামের ভুল বা অসামঞ্জস্য থাকলে অনতিবিলম্বে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি পোর্টালে গিয়ে "রেকর্ড সংশোধন"-এর আবেদন করতে হবে।

  • কেন জরুরি: ভবিষ্যতে জমি বিক্রি, হেবা (দান) বা ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে খতিয়ান ও NID-র নামের মিল থাকা বাধ্যতামূলক।

৪. উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমির ‘ই-নামজারি’ (Mutation)

বাবা-মা বা পূর্বপুরুষের মৃত্যুর পর অনেকেই জমি নিজেদের নামে নামজারি (মিউটেশন) না করে ফেলে রাখেন। এটি একটি মারাত্মক ভুল।

  • করণীয়: অংশীদারদের মধ্যে ‘বণ্টননামা দলিল’ (বাটোয়ারা) রেজিস্ট্রি করে দ্রুত সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসে ই-নামজারি-র আবেদন করতে হবে।

  • কেন জরুরি: নামজারি না করলে পুরাতন মালিকের নামেই খাজনার দাবি আসতে থাকবে এবং পরবর্তীতে ওই জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না।

৫. যেকোনো লেনদেনে "বায়রা দলিল" যাচাই

ভূমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে শুধু সর্বশেষ দলিল দেখাই যথেষ্ট নয়।

  • করণীয়: জমিটি গত ২৫ বছরে কার কার হাত বদল হয়ে বর্তমান মালিকের কাছে এসেছে, সেই ধারাবাহিক দলিল বা "বায়রা দলিল" ভালো করে যাচাই করে নিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জমিটির "তল্লাশি" (Search) দিয়ে কোনো দায়বদ্ধতা (যেমন: ব্যাংক বন্ধক) আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।


💡 জরুরি পরামর্শ: ভূমিসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য যাচাই, ই-নামজারি বা কর প্রদানের জন্য সরকারি অফিসিয়াল পোর্টাল land.gov.bd ব্যবহার করুন অথবা যেকোনো জিজ্ঞাসায় সরাসরি কল করুন সরকারি হেল্পলাইন ১৬১২২ নম্বরে (বিদেশ থেকে +৮৮০ ৯৬১২৩ ১৬১২২)। কোনো দালালের শরণাপন্ন হবেন না।

Previous Post
Next Post
Related Posts