সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নৈমিত্তিক ছুটি ২০ দিন ছুটি ছাড়াও রয়েছে বাৎসরিক ৪০ দিনের অর্জিত ছুটি। জমাকৃত অর্জিত ছুটি হতে যে কোনো সময় ছুটি নেওয়া যায়। এ দুই রকমের ছুটি ছাড়াও ১৬ ধরণের ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশ গেজেট এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR) অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরণের ছুটির বিধান রয়েছে। সাধারণত বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (পার্ট-১) এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর আলোকে এই ছুটিগুলো নির্ধারিত হয়।
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ছুটির বিধিমালা (বাংলাদেশ চাকরি বিধিমালা, প্রথম খণ্ড ও সংশোধিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯) অনুযায়ী ১৮ ধরনের ছুটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. অর্জিত ছুটি (Earned Leave)
কর্মকাল বা ডিউটির ভিত্তিতে এই ছুটি অর্জিত হয়। এটি দুই ধরনের:
পূর্ণ গড়ে বেতন: ১১ দিনের কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত হয়।
অর্ধ গড়ে বেতন: ১২ দিনের কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত হয়।
২. নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)
ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে বা আকস্মিক অসুবিধার জন্য বছরে সর্বোচ্চ ২০ দিন এই ছুটি পাওয়া যায়। এককালীন সর্বোচ্চ ১০ দিনের বেশি নেওয়া যায় না।
৩. সাধারণ অক্ষমতা জনিত ছুটি (Special Disability Leave)
কর্তব্য পালন অবস্থায় আহত বা অসুস্থ হয়ে অক্ষম হয়ে পড়লে এই ছুটি মঞ্জুর করা হয়। এটি সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত হতে পারে।
৪. কোয়ারেন্টাইন ছুটি (Quarantine Leave)
পরিবারের কোনো সদস্য সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে এবং এতে অন্যের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে এই ছুটি দেওয়া হয় (২১ থেকে ৩০ দিন)।
৫. প্রসূতি ছুটি (Maternity Leave)
নারী কর্মচারীরা সন্তান জন্মদানের জন্য এই ছুটি পান। বর্তমানে এটি পুরো বেতনসহ ৬ মাস (১৮২ দিন)। সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এই ছুটি পাওয়া যায়।
৬. হাসপাতাল ছুটি (Hospital Leave)
নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা বিপজ্জনক ডিউটি করার সময় অসুস্থ বা আহত হলে এটি পান। পূর্ণ বা অর্ধ গড়ে বেতনসহ এটি সর্বোচ্চ ৬ মাস হতে পারে।
Screening ছুটি (Study Leave)
সরকারি কাজের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোনো উচ্চতর শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের জন্য এই ছুটি দেওয়া হয়। এটি সাধারণত এককালীন ১২ মাস এবং সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত হতে পারে।
৮. অসাধারণ ছুটি (Extraordinary Leave)
অন্য কোনো ছুটি পাওনা না থাকলে বা কর্মচারী নিজে আবেদন করলে বিনাবেতনে এই ছুটি দেওয়া হয়। এটি এককালীন ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
৯. রূপান্তরিত ছুটি (Converted Leave)
অর্ধ গড়ে বেতনের ছুটির দ্বিগুণ কেটে পূর্ণ গড়ে বেতনে এই ছুটি নেওয়া যায়। এটি সাধারণত চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
১০. বিনোদন ছুটি (Recreation Leave)
প্রতি ৩ বছর অন্তর ১৫ দিনের এই ছুটি পাওয়া যায়। এই ছুটির সাথে এক মাসের মূল বেতনের সমান ভাতা দেওয়া হয়।
১১. চিকিৎসা ছুটি (Medical Leave)
অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের সনদপত্রের ভিত্তিতে অর্জিত ছুটির জমা থাকা সাপেক্ষে এই ছুটি নেওয়া যায়।
১২. লিয়েন ছুটি (Lien Leave)
অন্য কোনো সংস্থায় বা প্রেষণে কাজ করার জন্য বা বৈদেশিক চাকরির জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মূল পদের অধিকার বজায় রেখে এই ছুটি নেওয়া যায়।
১৩. অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি (PRL)
চাকরি শেষে অবসরে যাওয়ার ঠিক আগে ১ বছরের জন্য এই ছুটি পাওয়া যায়। এটি অর্জিত ছুটির অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
১৪. বাধ্যতামূলক ছুটি (Compulsory Leave)
সরকার বা কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত বা বিশেষ প্রয়োজনে কোনো কর্মচারীকে ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটি বলা হয়।
১৫. বহিঃবাংলাদেশ ছুটি (Ex-Bangladesh Leave)
বিদেশে ভ্রমণ বা চিকিৎসার জন্য অর্জিত ছুটির বিপরীতে এই ছুটি নেওয়া যায়। এর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।
১৬. বিশেষ অসুস্থতা ছুটি (Special Sick Leave)
নির্দিষ্ট কিছু রোগের ক্ষেত্রে (যেমন যক্ষ্মা) সাধারণ ছুটির অতিরিক্ত হিসেবে এই ছুটি মঞ্জুর করা হতে পারে।
১৭. অর্জিত ছুটি (গড় বেতনের অতিরিক্ত)
যাদের অর্জিত ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে ছুটির প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী বিশেষ বিবেচনা করা হয়।
১৮. বিভাগীয় ছুটি (Departmental Leave)
কিছু নির্দিষ্ট বিভাগে (যেমন বন বিভাগ বা যেখানে কাজের ধরণ ঋতুভিত্তিক) মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য এই বিশেষ ছুটির বিধান রয়েছে।
দ্রষ্টব্য: সরকারি বিধিবিধান এবং গেজেট অনুযায়ী সময়ের সাথে সাথে এই ছুটির নিয়মাবলীতে কিছুটা পরিবর্তন বা পরিমার্জন আসতে পারে।
নিচে ১৮ রকমের ছুটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও রেফারেন্সসহ একটি তালিকা দেওয়া হলো:
