এআই (AI) প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রতি বেশ জোরদার করা হয়েছে
বাংলাদেশে এআই (AI) প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রতি বেশ জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে যেসব এলাকায় এই অত্যাধুনিক নজরদারি সবচেয়ে বেশি সক্রিয়, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা (ট্রাফিক নজরদারি)
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সম্প্রতি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী (যেমন: লাল বাতি অমান্য করা, হেলমেট না পরা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো) শনাক্ত করে মামলা ইস্যু করছে।
প্রধান পয়েন্টগুলো:
শাহবাগ (হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়)
বাংলামোটর
কারওয়ান বাজার
বিজয় সরণি
জাহাঙ্গীর গেট
ফার্মগেট (স্থাপনের কাজ চলছে)
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকার প্রায় ৫০০টি পয়েন্টে এই প্রযুক্তি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।
২. শরীয়তপুর শহর (নাগরিক নিরাপত্তা)
দেশের অন্যতম প্রথম শহর হিসেবে শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরজুড়ে এআই নজরদারি চালু করা হয়েছে।
নজরদারির আওতা: শহরের প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ৩টি প্রধান সড়ক।
ক্যামেরার সংখ্যা: প্রায় ১২০টি এআই ক্যামেরা।
বিশেষ এলাকা: পালং, আংগারিয়া, মনোহর বাজার, বাস টার্মিনাল, আদালত চত্বর এবং কীর্তিনাশা নদীর কোটাপাড়া এলাকা (নৌপথে নজরদারি)।
৩. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্মার্ট সিটি প্রকল্প
মেট্রোরেল স্টেশন: মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্টেশনে উন্নত মানের এআই-এনাবলড নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে যা সন্দেহভাজন গতিবিধি শনাক্ত করতে পারে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: তৃতীয় টার্মিনাল ও আশেপাশের এলাকায় অত্যাধুনিক ফেশিয়াল রিকগনিশন (Facial Recognition) এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি সম্পন্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে: এখানে যানবাহনের গতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এআই ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়।
এআই সিসিটিভির বিশেষ ক্ষমতা:
সাধারণ সিসিটিভির তুলনায় এই প্রযুক্তিগুলো যেসব কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে:
মানুষ ও গাড়ি আলাদা করা: ভিড়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গাড়ির মডেল/নম্বর প্লেট শনাক্ত করা।
অ্যালার্ট সিস্টেম: কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা (যেমন: মারামারি, দুর্ঘটনা বা নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ) ঘটলে তাৎক্ষণিক কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল পাঠানো।
রাতের দৃশ্য: অন্ধকারেও অত্যন্ত স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও ধারণ (ColorVu বা Smart Hybrid Light প্রযুক্তি)।
ফেসিয়াল রিকগনিশন: অপরাধীদের ডাটাবেজের সাথে মিলিয়ে সন্দেহভাজনদের দ্রুত খুঁজে বের করা।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ এবং বিভিন্ন জেলা প্রশাসন অপরাধ দমন ও যানজট নিরসনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ধাপে ধাপে সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
