সরকারি চাকরিজীবীদের প্রসূতি (মাতৃত্বকালীন) ছুটির বিধান

 




সরকারি চাকরিজীবীদের প্রসূতি (মাতৃত্বকালীন) ছুটির বিধান

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রসূতি (মাতৃত্বকালীন) ছুটির বিধানগুলো মূলত বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR-১৯৭) এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯ দ্বারা পরিচালিত হয়। বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এর প্রধান দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. ছুটির মেয়াদ

  • একজন নারী সরকারি কর্মচারী মোট ৬ মাস (১৮০ দিন) প্রসূতি ছুটি পাবেন।

  • আবেদনকারী গর্ভবতী হওয়ার পর যে তারিখ থেকে ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করবেন, সেই তারিখ থেকেই ৬ মাসের ছুটি মঞ্জুর করতে হবে।

২. বেতন ও সুবিধা

  • ছুটিকালীন সময়ে ওই নারী কর্মচারী তার সর্বশেষ আহরিত বেতনের হারে পূর্ণ বেতন ও ভাতাদি পাবেন।

  • সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই ছুটি কর্মচারীর অর্জিত 'ছুটি হিসাব' (Leave Account) থেকে বিয়োগ হবে না। অর্থাৎ এটি তার সাধারণ পাওনা ছুটির বাইরে একটি বিশেষ সুবিধা।

৩. প্রাপ্যতার শর্তাবলি

  • সর্বোচ্চ দুইবার: একজন নারী কর্মচারী তার সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ২ (দুই) বার এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

  • চাকরির মেয়াদ: অস্থায়ী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে আগে ৯ মাসের একটি শর্ত থাকলেও, ২০১২ সালের সংশোধনী অনুযায়ী এখন চাকরির মেয়াদ নির্বিশেষে সকল নারী কর্মচারী এই ছুটি পাওয়ার যোগ্য।

  • আবেদন প্রক্রিয়া: গর্ভাবস্থার সপক্ষে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সার্টিফিকেটসহ আবেদন করতে হয়।

৪. গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম

  • কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা: যথাযথ সার্টিফিকেটসহ আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ এই ছুটি না মঞ্জুর করার বা মেয়াদ কমানোর কোনো অধিকার রাখেন না। এমনকি কর্তৃপক্ষ নিজ ইচ্ছায় ছুটি শুরুর তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন না।

  • সর্বশেষ সময়সীমা: ছুটি শুরুর সর্বশেষ তারিখ হবে সন্তান প্রসবের তারিখ। অর্থাৎ সন্তান প্রসবের পর নতুন করে এই ছুটি শুরু করার সুযোগ নেই; এটি প্রসবের আগে বা প্রসবের দিন থেকেই শুরু হতে হবে।

  • অন্য ছুটির সাথে সংযুক্তি: ডাক্তারের পরামর্শ থাকলে এই ছুটির ধারাবাহিকতায় অর্জিত ছুটি বা অন্য যেকোনো পাওনা ছুটি ভোগ করা যেতে পারে।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি কোনো নারী কর্মচারী দুইয়ের অধিক সন্তানের মা হন, তবে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি এই প্রসূতি ছুটি পাবেন না। সেক্ষেত্রে তাকে তার পাওনা অন্য ছুটি (যেমন- অর্জিত ছুটি) ব্যবহার করতে হবে।

Previous Post
Next Post
Related Posts