সরকারি কর্মচারীদের জন্য সংগনিরোধ ছুটি বা Quarantine Leave সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিধিমালা
বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সংগনিরোধ ছুটি বা Quarantine Leave সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। এটি সাধারণ অসুস্থতা জনিত ছুটির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।
নিচে এই ছুটির প্রকৃতি এবং এটি গ্রহণের প্রক্রিয়া আলোচনা করা হলো:
১. সংগনিরোধ ছুটি কী?
যখন কোনো সরকারি কর্মচারী নিজে অসুস্থ নন, কিন্তু তার পরিবারের কোনো সদস্য বা বাসস্থানে এমন কোনো সংক্রামক ব্যাধি (যেমন: বসন্ত, কলেরা, প্লেগ, টাইফয়েড, বর্তমানে করোনা ইত্যাদি) ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে তার অফিসে উপস্থিত হওয়া অন্যদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তখন তাকে যে ছুটি দেওয়া হয় তাকে সংগনিরোধ ছুটি বলে।
২. ছুটির মেয়াদ
এই ছুটি সাধারণত সর্বোচ্চ ২১ দিন পর্যন্ত পাওয়া যায়।
বিশেষ প্রয়োজনে বা ডাক্তারী পরামর্শ অনুযায়ী এই মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে।
৩. যেভাবে নিতে হয় (প্রক্রিয়া)
সংগনিরোধ ছুটি গ্রহণের জন্য সাধারণ ছুটির মতোই আবেদন করতে হয়, তবে কিছু বিশেষ শর্ত পালন করতে হয়:
আবেদনপত্র: সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে।
চিকিৎসা সনদ (Medical Certificate): এই ছুটি পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র। সেখানে উল্লেখ থাকতে হবে যে, কর্মচারীর বাসস্থানে সংক্রামক ব্যাধি রয়েছে এবং তার জনসমক্ষে আসা বিপজ্জনক।
অফিস আদেশ: আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে অফিস আদেশের মাধ্যমে এই ছুটি মঞ্জুর করবেন।
৪. গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
বেতন ও ভাতা: এই ছুটিতে থাকাকালীন কর্মচারী পূর্ণ গড় বেতনে বেতন ও ভাতা প্রাপ্য হন।
ছুটির হিসাব: এই ছুটি কর্মচারীর ব্যক্তিগত "ছুটির হিসাব" (Leave Account) থেকে বিয়োগ করা হয় না। অর্থাৎ, এটি অর্জিত ছুটি বা অন্য কোনো পাওনা ছুটি থেকে কাটা যাবে না।
নিজের অসুস্থতা: যদি কর্মচারী নিজে কোনো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, তবে তিনি এই ছুটি পাবেন না। সেক্ষেত্রে তাকে সাধারণ অসুস্থতাজনিত ছুটি (Sick Leave) বা অর্জিত ছুটি (Earned Leave) নিতে হবে।
সহজ কথায়: আপনার পরিবারে বা বাসায় কারো ছোঁয়াচে রোগ হলে এবং ডাক্তার আপনাকে কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিলে আপনি পূর্ণ বেতনে এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন, যা আপনার মূল ছুটির পাওনা থেকে কাটা যাবে না।
