সরকারি চাকরি শেষে একজন কর্মচারী সাধারণত যে সকল আর্থিক সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
সরকারি চাকরি শেষে আপনি কি কি পাবেন?
বাংলাদেশের সরকারি চাকরি শেষে একজন কর্মচারী সাধারণত যে সকল আর্থিক সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. পেনশন (Pension)
চাকরি শেষে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো মাসিক পেনশন। একজন কর্মচারী তার শেষ আহরিত মূল বেতনের (Basic Pay) একটি নির্দিষ্ট অংশ (বর্তমানে সাধারণত ৯০%) পেনশন হিসেবে পান। এটি আজীবন পাওয়া যায় এবং পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনি (সাধারণত স্ত্রী/স্বামী) এটি পেয়ে থাকেন।
২. আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি (Gratuity)
পেনশনে যাওয়ার সময় এককালীন একটি বড় অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়, যাকে গ্র্যাচুইটি বলে। পেনশনের একটি অংশ (বর্তমানে ৫০%) বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের কাছে সমর্পণ (Surrender) করতে হয়, যার বিনিময়ে সরকার এককালীন এই টাকা প্রদান করে। বাকি ৫০% থেকে মাসিক পেনশন দেওয়া হয়।
৩. ল্যাম্প গ্র্যান্ট (Lump Grant)
অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটি বা PRL (Post Retirement Leave) ভোগ না করে তার বিনিময়ে নগদ অর্থ নেওয়া যায়। অর্জিত ছুটির পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা এককালীন পাওয়া যায়।
৪. ভবিষ্যৎ তহবিল (GPF - General Provident Fund)
চাকরিকালীন সময়ে প্রতি মাসে মূল বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ এই তহবিলে জমা রাখতে হয়। অবসরের সময় জমানো এই টাকা এবং তার ওপর অর্জিত মুনাফা (সুদ) এককালীন পাওয়া যায়।
৫. কল্যাণ তহবিল ও যৌথ বীমা (Benevolent Fund & Group Insurance)
কল্যাণ তহবিল: অবসরের পর নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত বা নির্দিষ্ট মেয়াদে এই তহবিল থেকে মাসিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
যৌথ বীমা: চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বীমার টাকা পাওয়া যায়।
৬. চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance)
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা মাসিক পেনশনের পাশাপাশি প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট হারে চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন। বয়স ৬৫ বছরের বেশি হলে এই ভাতার পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
৭. উৎসব ভাতা (Festival Allowance)
কর্মরতদের মতোই পেনশনভোগীরা বছরে দুটি ঈদে বা ধর্মীয় উৎসবে উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। এছাড়া বাংলা নববর্ষের জন্যও 'বৈশাখী ভাতা' পাওয়া যায়।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
পিআরএল (PRL): অবসরে যাওয়ার ঠিক আগে এক বছর ছুটি কাটানো যায়, যে সময় পূর্ণ বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যায়।
পেনশন বৃদ্ধি (Increment): প্রতি বছর জুলাই মাসে মাসিক পেনশনের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়।
আবাসন সুবিধা: সরকারি কোয়াটারে থাকলে অবসরের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা ছেড়ে দিতে হয়।
এই সুবিধাগুলো মূলত ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী নির্ধারিত। তবে চাকরির ধরন (যেমন: ক্যাডার বা নন-ক্যাডার) এবং চাকরির মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে টাকার অঙ্কে ভিন্নতা হতে পারে।
