সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অবসর-উত্তর ছুটি (Post Retirement Leave - PRL) সংক্রান্ত নিয়মাবলি
বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অবসর-উত্তর ছুটি (Post Retirement Leave - PRL) সংক্রান্ত নিয়মাবলি নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) কত দিন?
সর্বোচ্চ সময়সীমা: একজন সরকারি কর্মচারী তার পাওনা ছুটি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১ (এক) বছর বা ১২ মাস পর্যন্ত অবসর-উত্তর ছুটি (PRL) ভোগ করতে পারেন।
শর্ত: এই ছুটি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ছুটির হিসাবে (Leave Account) প্রয়োজনীয় ছুটি জমা থাকতে হবে। যদি তার ১২ মাসের কম ছুটি জমা থাকে, তবে তিনি কেবল সেই কয়দিন ছুটি পাবেন।
২. আবেদনের সময়সীমা
কত দিন আগে: সাধারণত অবসরের তারিখের অন্তত ৩ মাস (৯০ দিন) পূর্বে পিআরএল-এর জন্য আবেদন করা উচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ৬ মাস আগে থেকে প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কেন আগে আবেদন: পিআরএল শুরু হওয়ার আগে ল্যাম্পগ্রান্ট (ছুটি নগদায়ন) এবং পেনশনের প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্ন করতে হয়। সময়মতো আবেদন না করলে ছুটি মঞ্জুরিতে বিলম্ব হতে পারে।
৩. আবেদন করার নিয়ম
পিআরএল-এর আবেদন প্রক্রিয়া এখন অনেকটা সহজ ও নির্দিষ্ট ফরম্যাটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:
নির্ধারিত ফরমে আবেদন: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সাথে পিআরএল শুরু এবং শেষ হওয়ার প্রস্তাবিত তারিখ উল্লেখ করতে হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
পূর্ণাঙ্গভাবে পূরণকৃত আবেদন ফরম।
চাকরির খতিয়ান বা সার্ভিস বুক (নন-গেজেটেডদের জন্য) অথবা হালনাগাদ ছুটির হিসাব (গেজেটেডদের জন্য)।
ছুটির প্রাপ্যতা সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র (অডিট অফিস বা সংশ্লিষ্ট হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে সংগৃহীত)।
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
দাখিল: আবেদনটি নিজ দপ্তরের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করতে হয়।
ছুটি মঞ্জুরি: কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই-বাছাই করে একটি অফিস আদেশ (G.O.) জারি করবেন, যেখানে পিআরএল-এর সময়কাল এবং ল্যাম্পগ্রান্ট (১৮ মাসের মূল বেতনের সমান অর্থ, যদি ছুটি জমা থাকে) মঞ্জুরির বিষয় উল্লেখ থাকবে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পিআরএল চলাকালীন একজন কর্মচারী তার মূল বেতনের সমপরিমাণ টাকা এবং নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা ও আবাসন সুবিধা (শর্তসাপেক্ষে) পেয়ে থাকেন, তবে উৎসব ভাতা বা যাতায়াত ভাতার মতো কিছু সুবিধা স্থগিত থাকে।
